Published : 10 Jan 2026, 03:03 PM
ভোলার লালমোহন উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রায়চাঁদ বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম।
তিনি বলেন, “জুমার নামাজের আগে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের দাওয়াতী কাজের ব্যাঘাত নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ঘটনাটি মিমাংসা করে দিই।
“তবে সন্ধ্যার পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা রায়চাঁদ বাজারে মোটরসাইকেল মহড়া দেয়। এরপরই বিএনপির নেতাকর্মীরাও একত্রিত হয়।
ওসি আরও বলেন, পরে রায়চাঁদ বাজারে রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইট দিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে আবারও পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি।”
পরে এ ঘটনায় রাতেই বিএনপি ও বিডিপির পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত-বিডিপি জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম।
তিনি বলেন, “শুক্রবার বেলা ১১টায় রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের নারী কর্মীরা সাংগঠনিক প্রচারণায় যান। তখন ওই এলাকার নূরনবীর ছেলে রুবেল ওই নারী কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। তখন একজন নারীকর্মী তার স্বামী রায়চাঁদ বাজারের ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিনকে বিষয়টি জানান।
“জসিম উদ্দিন মুঠোফোনে রুবেলকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রুবেল তাকেও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এরপর রুবেল জসিম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে তার সঙ্গে হাতাহাতি করেন।”
নিজামুল হক নাঈম বলেন, “এর কিছুক্ষণের মধ্যে বিএনপির আরো নেতাকর্মীরা বাজারে সংঘবদ্ধ হতে থাকেন। একপর্যায়ে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হানিফ হাওলাদার সেখানে উপস্থিত হন ও আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন।
“ঘটনা শুনে আমাদের নেতাকর্মীদের সেখান থেকে চলে আসতে বলি। সন্ধ্যার দিকে নেতাকর্মীরা বাজার থেকে চলে আসতে শুরু করলে পেছন থেকে হঠাৎ তারা আক্রমণ চালান। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।”
জামায়াত সমর্থিত এই প্রার্থী বলেন, “এ সময় তারা আমাদের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তাদেরকে উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।”
তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান।
অপরদিকে, শুক্রবার রাতেই লালমোহন উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল।
তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) প্রার্থীর পক্ষে মহিলা লীগের চিহ্নিত নেত্রীদের নিয়ে লালমোহনের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে খারাপ করতে অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে আমাদের দলের কোনো নেতাকর্মী মাথা ঘামাননি।
“তবে সন্ধ্যার দিকে লালমোহন থেকে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সন্ত্রাসীদের নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জসিমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মীকে আহত করা হয়।”
তিনি বলেন, “আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও জামায়াতের ক্যাডারদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি। একইসঙ্গে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
লালমোহন থানার ওসি অলিউল ইসলাম, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।