Published : 06 Jul 2026, 01:17 PM
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।
এতে প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে এবং বহু যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।
জলঢাকা বাস মালিক সমিতির সদস্য ও পারফেক্ট ট্রাভেলস বাসের পরিচালক মাজহারুল ইসলাম মিঠুন জানান, রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জলঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

বিক্ষোভ অংশ নেওয়া পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে জেলার ডিমলা উপজেলা থেকে অবিলের বাজার রুটে চলাচলকারী বাসগুলো থেকে দুটি স্থানে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, চাঁদা দিতে না চাইলে মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে ‘খারাপ আচরণ’ করা হয়। তাই বাধ্য হয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন তারা।
এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে জলঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকার উভয় পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। রংপুরগামী যাত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, “জরুরি কাজে রংপুরে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম। এসে দেখি সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। হঠাৎ এ পরিস্থিতিতে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছি।”
রাত ৯টায় কথা হয় বাস নাবিল পরিবহনের যাত্রী রবিউল আলমের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, “সাড়ে ৯টায় বাস ছাড়ার কথা ছিল। কখন যে অবরোধ উঠবে।”
জলঢাকা বাস মালিক সমিতির সদস্য ও পারফেক্ট ট্রাভেলস বাসের পরিচালক মাজহারুল ইসলাম মিঠুন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছি। বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে।
“আমরা সড়কে কোনো ধরনের চাঁদা দিতে চাই না। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাস চলাচল করলেও কোথাও এভাবে চাঁদা দিতে হয় না। অথচ এখানে অল্প দূরত্বের একটি রুটে চলাচল করতে গিয়ে আমাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাঁদা দিতে হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জলঢাকা থানার ওসি নাজমুল আলম বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলি। পরে দুপক্ষ একটা সিদ্ধান্তে আসার পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।”
তিনি বলেন, “প্রশাসন ও স্থানীয়দের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে এ সমাধানের চেষ্টা করা হবে। পরবর্তী বৈঠক বা সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের টোল, চাঁদা ও সার্ভিস চার্জ আদায় বন্ধ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে কেউ চাঁদা উত্তোলনের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”