Published : 25 Oct 2025, 05:53 PM
টিবি রোগে আক্রান্ত হয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কের সর্বশেষ জিরাফটিরও মৃত্যু হয়েছে। এতে জিরাফ শূন্য হয়ে পড়েছে পার্কটি।
বৃহস্পতিবার জিরাফটির মৃত্যু হলেও শনিবার তা গণমাধ্যমে জানান গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবত সাফারি পার্কের সব শেষ জিরাফটি টিবি আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ছিল। প্রাণীটিকে সুস্থ করতে ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছিল।
কিন্তু সবশেষ চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার পার্কের ভেতরেই জিরাফটির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর জিরাফটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে, তারপর পার্কের ভেতরেই মাটি চাপা দেয়া হয়।
এর ফলে পার্কে আর কোন জিরাফ রইলো না বলে জানান পার্কের ভারপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা ।

গাজীপুর সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্যে জানা যায়, ২০১৩ সালে ৩ হাজার ৮১০ একর জায়গাজুড়ে পার্ক প্রতিষ্ঠার সময় দুই দফায় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১০টি জিরাফ আনা হয়।
আন্তর্জাতিক প্রাণী বিপণন প্রতিষ্ঠান ফ্যালকন ট্রেডার্সের মাধ্যমে জিরাফগুলো আমদানি করা হয়েছিল।
এরপর ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে পার্কে চারটি জিরাফ জন্ম নেয়। তখন গাজীপুর থেকে জিরাফ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়ও পাঠানো হয়েছিল।
এর মধ্যে ২০১৯-২০২০ সালের মধ্যে পার্কে থাকা সবশেষ পুরুষ জিরাফটির মৃত্যু হয়। তারপর থেকে ২০২২ সালের মধ্যে রোগাক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু জিরাফ মারা যায়। পরে ২০২৩ সালে জিরাফের সংখ্যা তিনটিতে ঠেকে। যার সবগুলোই ছিল মাদী।
সে বছরের ২০ অক্টোবর একটি জিরাফের মৃত্যু হলে মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মারা যাওয়া জিরাফটি ২০২১ সাল থেকে অসুস্থ ছিল। ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে এর জরায়ুতে পচন ধরে। পরে তা শরীরের পেছনের অংশে বিস্তার লাভ করে।
মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, সাফারি পার্কে তখন তিনটি মাদি জিরাফ থাকলেও কোনো পুরুষ জিরাফ না থাকায় মেটিং (প্রজনন) হচ্ছিল না। পরিণত এবং মেটিংয়ে ব্যর্থ হওয়ায় জিরাফটির জরায়ুতে পচন ধরে, যা পরে ক্যানসারে রূপ নেয়।

তবে এই প্রতিবেদন নিয়ে তখন সমালোচনাও হয়েছিল। এমন তথ্যের ‘বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই’ বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান।
একইসঙ্গে সাফারি পার্কে পুরুষ জিরাফের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “সাফারি পার্ক হল ব্রিডিংয়ের জন্য, সংখ্যা বাড়ানোর জন্য। এমন জায়গায় পুরুষ জিরাফ নেই, তাহলে তো হবে না। তাদের উচিত ছিল পুরুষ জিরাফ সংগ্রহ করা। সংগ্রহ না করলে সমস্যা।”
এদিকে সবশেষ জিরাফটির মৃত্যুর ঘটনায় পার্ক কর্তৃপক্ষ গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে জানিয়ে ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন