Published : 22 Mar 2026, 09:51 PM
সাংবাদিকদের এক প্রেস ক্লাবের অধিনে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বরিশালের আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “একই পেশার দুই-তিনটা সংগঠন হবে? জনগণ ও পাঠক তো কারো দাস নয়! যে কেউ এসে বলবে, আমি প্রেস ক্লাব, সবাই মেনে নেবে?
“এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। সাংবাদিকতা যদি করতে হয়, তাহলে একটা সংগঠন করতে হবে।”
রোববার সকালে অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে যদি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হয়। তাহলে গণমাধ্যমে যারা কাজ করেন তাদেরও জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে।
“রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হলে যেমন যা খুশি তাই করা যায় না, তার প্রমাণতো শেখ হাসিনা। তেমনি কোনো গণমাধ্যম, কোনো সাংবাদিক বা কোনো সংবাদপত্রের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড থাকলেই কিন্তু যা তা করা যাবে না।”
নিজ এলাকার সাংবাদিকদের উদ্দেশে স্বপন বলেন, “আগৈলঝাড়ায় যারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেন, সেই পরিচয় সম্পর্কে যদি কোনো তর্ক থাকে, কথা থাকে বা বিতর্ক থাকে সেটি নির্ধারণ করবেন সাংবাদিকরাই।
“আমাদের নির্ধারণ করার কোনো দরকার নেই। কে ছোট সাংবাদিক, কে বড়ো সাংবাদিক, কে লেখাপড়া জানে, কে জানে না- এগুলো আমাদের দেখার দরকার নেই, কারণ আমরা পাঠক। যারা প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব দেবেন, তারা একটা টিম করে বলবেন।
“আপনারা যাকে ভালো বলবেন ভালো, আর যাকে বলবেন, সাংবাদিকতার নামে ব্ল্যাকমেইল করে..., তার বিষয়টি আমরা ওইভাবে দেখব।”
এক প্রেস ক্লাবের ওপর জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আগৈলঝাড়াতে যতগুলো সাংবাদিক সংগঠন রয়েছে, সেগুলোতে যে কেউ তার খুশিমত যুক্ত হতে পারেন। কিন্তু প্রেস ক্লাব হতে হবে একটা। আজকের পরে যদি প্রেস ক্লাব একটা থাকে তাহলে আসব, আর না থাকলে আমাকে ডাকলেও চা খেতে আসব না।”
সাংবাদিক হিসেবে প্রতিদিন পাঠকদের যেভাবে সংবাদ পরিবেশন করেন, তাতে আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে একটা প্রেস ক্লাব করতে পারবেন না কেন বলে প্রশ্ন তোলেন স্বপন।
সাংবাদিকতার মতো পেশা থেকে কেউ বিত্তবান হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের পেশাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে রাখতে হয়। সেটা সারা দুনিয়াতেই তাই। বড় বড় শিল্পী, গায়ক কিংবা লেখকরা বিত্তবান হয় না। সারাজীবনই দেখা যায়, রাষ্ট্র, রাজ্য, রাজা, সমাজ তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়।
“কারণ এটা একটা প্রতিভা, এটা কায়িক পরিশ্রমের কাজ না যে শরীরে বল আছে করলাম। এতে এক ধরনের মেধা ও যোগ্যতা লাগে। কিন্তু এখানে তারা যদি পরিচয়ের সংকট থেকে উদ্ধার পেতে না পারে, তাহলে রাষ্ট্র ও সমাজ তো বিব্রত হয়ে যায়।”
আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এফ এম নাজমুল রিপনের পরিচালনায় সভায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্যসচিব মোল্লা বশির আহাম্মেদ পান্না, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সর্দার হারুন রানা, মো. সাইফুল ইসলাম এবং সহসভাপতি মো. মাসুম হাওলাদার বক্তব্য দেন।
পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ হলরুমে সব শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।