Published : 26 Mar 2026, 06:18 PM
নীলফামারীর ডোমারে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুর সাত্তারের নাম ঘোষণা না করা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ডোমার হাইস্কুল মাঠে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ডোমার হাইস্কুল মাঠে কুচকাওয়াজ ও শিক্ষার্থীদের ডিসপ্লে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
সেখানে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুর সাত্তার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তবে সঞ্চালক মাইকে অতিথির নাম ঘোষণা না করায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানান।
এক পর্যায়ে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী স্লোগান দিতে থাকলে সেখানে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ বিন আমিন সুমন ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ এমপির নাম ঘোষণা করেননি। এ সময় সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা ‘রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী স্লোগান’ দিতে থাকেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডোমার উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মাসুদ বিন আমিন সুমন বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে দেওয়া স্ক্রিপ্টে প্রধান অতিথির নাম ছিল না। এজন্য আলাদাভাবে নাম ঘোষণা করিনি।
“পরে আমাকে জানালে সম্মানের সঙ্গে এমপির নাম ঘোষণা করি এবং তাকে সম্মান দিয়ে আসন গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। তবে তিনি আসন গ্রহণ করেননি। এ সময় কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে আপত্তিকর কথা বলতে শুরু করেন। তবে বিএনপির কোনও নেতাকর্মী এমন কাজ করেনি।”
সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, “জাতীয় অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে সঞ্চালনা না করে সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে করলে ভালো হত। তাহলে সেখানে কোনো দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠতো না।”
ভবিষ্যতে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “অনুষ্ঠান চলাকালে সেখানে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী আপত্তিকর স্লোগান দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উপজেলার প্রশাসনের অনুরোধে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি এবং স্বেচ্ছায় সেখান থেকে চলে আসি।”
ডোমার ইউএনও শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, “সেখানে তেমন কিছু হয়নি, সামান্য একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।”
এ বিষয়ে নীলফামারীর সহকারী পুলিশ সুপার (ডোমার সার্কেল) নিয়াজ মেহেদী বলেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কিছুটা বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।