Published : 30 Jan 2026, 03:39 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে গেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচারের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাবেন।
শুক্রবার বিকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে রংপুর ব্ভিাগের নির্বাচনি প্রচার কাজ শুরু করবেন বিএনপি-প্রধান। দুপুরে জুমার নামাজের পর তিনি বগুড়া থেকে আবু সাঈদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সেই সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও একই সাজা দিয়েছে।
অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছরের সাজার লঘুদণ্ড।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, “আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের পতন ঘটে। আর সেই পরিবর্তনের কারণেই দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখতে পেরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
“আমি আশা করেছিলাম যে, আমার ছেলে লেখাপড়া করে চাকরি করবে, তা দেখে মারা যাব। তা তো আর হল না। এখন ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেন মারা যেতে পারি। এই বিচার যেন কার্যকর হয়, এমন দাবি রাখব তারেক রহমানের কাছে। তিনি সরকার গঠন করলে আসামিদের দেশে এনে যেন বিচার কার্য সম্পাদন করেন। আমার বিচার ছাড়া আর কিছু চাওয়ার নাই।”
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, “আজও আমি ছেলের স্বপ্ন দেখি। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের যেন বিচার হয়। তাদের যেন ফাঁসি হয়। আমার ছেলে শহীদ হওয়ার পরে তো তারেক রহমান দেশে আসতে পারছে। আল্লাহ তাকে নিয়ে আসছে। তাই ছেলের বিচার যেন সঠিকভাবে হয়, এটাই আমার চাওয়া।”
আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন, “তারেক রহমান দীর্ঘদিন পরে দেশে আসছেন। তিনি ভাইয়ের কবর জিয়ারতের জন্য এখানে আসবেন। আমাদের প্রত্যাশা তিনি যদি ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে যেন বৈষষম্যহীন বাংলাদেশ, ন্যায়-নীতির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত সব শহীদ পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়।
“যারা আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তাদেরকে যেন ফাঁসি দেওয়া হয়। যারা পরোক্ষভাবে জড়িত তাদেরকে যেন উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হয়। যারা জুলাই অভ্যুত্থানে আহত হয়েছে তাদের চিন্তা যেন সবার আগে করে।”
পীরগঞ্জে আবু সাঈদের নামে একটি মেডিকেল কলেজের দাবিও জানান আবু হোসেন।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে আবেগাপ্লুত শহীদ আবু সাঈদের পরিবার। এ উপলক্ষে সন্তানের সমাধিস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছে পরিবার।
আবু সাঈদকে যেদিন হত্যা করা হয়, সেদিন দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকে পুলিশের গুলি করার ভিডিও সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হলে ছাত্র-জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। পরদিন থেকে সারা দেশে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এরপর বিক্ষোভে দমন-পীড়ন আর সহিংসতার মধ্যে ১৯ জুলাই কারফিউ দিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি শেখ হাসিনা সরকার।
তুমুল গণ-আন্দোলনের মধ্যে ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।