১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে সালিশের লোকজন কুপিয়ে মারল বাবা-ছেলেকে, আটক ৩

এছাড়া গ্রামবাসী এক ব্যক্তির দোকান ও একটি মাজারে ভাঙচুর চালায়।

ময়মনসিংহে সালিশের লোকজন কুপিয়ে মারল বাবা-ছেলেকে, আটক ৩
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Apr 2025, 09:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:30 PM

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় সালিশের লোকজনের হাতে বাবা-ছেলে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

রোববার দুপুরে উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মো. রোকনুজ্জামান জানান।

নিহত আব্দুল গফুর (৪০) ও ছেলে মেহেদী হাসান (১৫) ওই গ্রামের বাসিন্দা। 

বাবা-ছেলেকে হত্যার পর রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে গিয়ে হারুন নামে এক ব্যক্তির বাড়ি, দোকান ও একটি মাজার ভাঙচুর করে শত শত মানুষ। 

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কাজী আখতারুল আলম। ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার আতংকে গ্রামটি প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। 

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, আব্দুল গফুর ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি ও একাধিক চুরি অভিযোগ আছে। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে গ্রামে সালিশ বসার কথা ছিল।

রোববার দুপুরে গফুরের বাড়ির কাছে নাওগাঁও হোসেনিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সামনে গ্রামের শত শত মানুষ সালিশ বসিয়ে গফুর ও ছেলে মেহেদীকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু বাবা-ছেলে সালিশে না গিয়ে ঘরেই বসে থাকেন। 

তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসীর দাবি, সালিশের লোকজন খুঁজতে তাদের বাড়ি গেলে দা নিয়ে ঘর থেকে বের হন গফুর। এতে বিক্ষুব্ধ লোকজন দা দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আব্দুল গফুর ও তার ছেলে মেহেদী হাসানকে ঘটনাস্থলেই মেরে ফেলেন। 

এরপর শত শত মানুষ রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে গিয়ে হারুন অর রশিদ নামে একজনের বাসা, দোকান ঘর ও একটি মাজার ভাঙচুর করেন।

নিহত আব্দুল গফুরের স্ত্রী শিল্পী আক্তার বলেন, “স্থানীয় হাবিবুর রহমানসহ মানুষ সালিশের নামে আমার স্বামী ও ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। যত অপরাধই করে থাকুন, দেশে আইন আছে, আইনের মাধ্যমে বিচার হতো। কেন তারা আমার স্বামী-সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করল?”

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মো. রোকনুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।”