চাঁদপুরে মুক্তিপণ না পেয়ে শিশুকে হত্যায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

শিশুকে আটকে রেখে তার মায়ের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

চাঁদপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Jan 2023, 12:11 PM
Updated : 23 Jan 2023, 12:11 PM

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে শিশুকে হত্যার দায়ে এক দশক পর যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুরে চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইয়েদুল ইসলাম বাবু জানান।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. শাহাজালাল হোসেন সোহাগ উপজেলার বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের খাড়খাদিয়া গ্রামের মো. শাহজাহান মেকারের ছেলে।

হত্যার শিকার নাবিল রহমান ইমন (৬) একই ইউনিয়নের মদনের গাঁও গ্রামের মুন্সী বাড়ির মো. মিজানুর রহমানের ছেলে এবং স্থানীয় চান্দ্রা বাজার শিশু-কিশোর একাডেমির প্লে গ্রুপের ছাত্র ছিল।

মামলার বরাত দিয়ে আইনজীবী বলেন, ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর শিশু নাবিল দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। আসামি সোহাগ পথ থেকে তাকে অপহরণ করে চান্দ্রা বাজারে তার দোকানে নিয়ে যায়। দোকানের একটি কক্ষে শিশুকে আটকে রাখে এবং মোবাইল ফোনে শিশুর মায়ের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে ওইদিনই শিশুকে গলায় প্লাস্টিক পেঁচিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরবর্তী সময়ে শিশুটিকে কাগজের কার্টনে ভরে বাজারের গলির ময়লার ডাস্টবিনে লুকিয়ে রাখে।

ওইদিনই শিশুটির বাবা মিজানুর রহমান ফরিদগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করে মামলা করেন। এরপর ২ অক্টোবর বাজারের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ডাস্টবিনে শিশু নাবিলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশে হস্তান্তর করে।

মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আসামি সোহাগকে ১৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসআই মো. আখতার হোসেন ঘটনাটি তদন্ত করে ওই বছর ২ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। মামলায় নয়জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামি সোহাগ মামলা চলাকালে জামিন নিয়ে পলাতক হন।

আইনজীবী বলেন, আসামিকে মামলার একটি ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭ ও ৮ ধারায় পৃথকভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় প্রত্যেক ধারায় পৃথকভাবে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে।

এ ছাড়া দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় আসামিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক