Published : 19 Dec 2025, 05:20 PM
বান্দরবানে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদে পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও করে আল্টিমেটাম দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় তারা।
এ সময় ‘ইনকিলাব-জিন্দাবাদ’, ‘লীগ ধর-জবাই কর, লীগ ধর-জেলে ভর’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি আসিফ ইকবাল বলেন, “বৃহম্পতিবার রাতে পুলিশ সুপার বলেছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুরকে গ্রেপ্তার করবেন এবং জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। এখনও পর্যন্ত তা না করায় এই ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।”
এ সময় বক্তব্য রাখেন এনসিপি জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্য সচিব লুক চাকমা ও ছাত্রনেতা মিছবাহ উদ্দিন।
এ বিষয়ে বান্দরবান পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ডেভিল হান্ট অপারেশন চলছে। ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এই অপরেশনকে আরও বেগবান করা হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার টিকে বান্দরবান শহরের ট্রাফিক মোড় এলাকায় শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেয় এক দল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জানতা। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে স্থানীয় রাজার মাঠ এলাকায় অবস্থান নেয় তারা।
সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শনের এক পর্যায়ে সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈশিং এর বাসায় অগ্নিসংযোগ করে। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।