শরীয়তপুরে নৌকা ও স্বতন্ত্রের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হাতবোমায় আহত ৮

নৌকার প্রার্থী এটিকে স্থানীয় ক্যাবল ব্যবসায়ীদের বিষয় বলে দাবি করেছেন।

শরীয়তপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Dec 2023, 08:36 AM
Updated : 1 Dec 2023, 08:36 AM

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হাতবোমার বিস্ফোরণে দুপক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নড়িয়া বাজারে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২/৩শ’ জনকে আসামি করে মামলা করেছে বলে নড়িয়া থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান।

ওসি বলেন, “উভয় পক্ষও বলছে মামলা দিবে। ঘটনার সময় দুপক্ষই অনেক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।” 

শরীয়তপুর-২ আসনে নৌকার প্রার্থী এ কে এম এনামুল হক শামীমের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলীর সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় বাজারের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও র‌্যাব গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতরা হলেন- নড়িয়া কেদারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম তপন ছৈয়াল (৩৩), নড়িয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন হামজা (৫০), যুবলীগ নেতা সোহেল কাজী (৩৬), কনক লস্কর (৪০) ও সোহেল বন্দুকছি (৪০), পথচারী রনি মিয়া (৩০), জাকির হোসেন (২৪), রবিন ছৈয়াল। 

তাদের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় মাজেদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যদিও এনামুল হক শামীম এটির সঙ্গে তার সমর্থকদের কোনো সংশি্লষ্টতা নেই বলে দাবি করেন। বলেন, “ঘটনাটি স্থানীয় ক্যাবল ব্যবসায় নিয়ে ঘটেছে।”

এদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর দাবি, নৌকার সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ছয়জনকে আহত করেছেন।

অপরদিকে, নৌকার সমর্থকরা বলছেন- তাদের দুজন আহত হয়েছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের (নৌকা) মনোনয়ন পান পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ এ কে এম এনামুল হক শামীম। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার প্রয়াত কর্নেল শওকত আলীর ছেলে ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খালেদ শওকত আলী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে নড়িয়া মাছ বাজারের কাছে কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে নৌকার সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থদের ওপর হামলা চালায়। পরে দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া।

খবর পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ ঘটনাস্থলে গেলে তার গাড়ির সামনে মুহুর্মুহু হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো ও ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। 

খালেদ শওকত আলী বলেন, “সুরেশ্বর হুজুরের বাড়িতে মিলাদে যাই। তখন শুনতে পাই, নড়িয়া বাজারে আমার সমর্থক কনক ও আল আমিনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তখন আমি থানায় অভিযোগ করতে আসি। থানার সামনে এলে দুষ্কৃতকারীরা আমার গাড়ির ওপর ককটেল ছুড়ে মারে। গাড়ি থামিয়ে আমার ড্রাইভারের চাবি নিয়ে যায়।”

তার অভিযোগ, “নড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মোস্তফা সিকদার এবং সুমন সিকদারের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে।

“তারা দুজন এ কে এম এনামুল হক শামীমের কর্মী বলেই আমি জানি। আমি বিশ্বাস করি, নড়িয়া-সখিপুরের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে এর প্রতিশোধ নেবে।”

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মোস্তফা সিকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে নৌকার প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত নড়িয়া পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীর কিছু লোকজন বাজারে এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে আমাদের লোকজনদের সঙ্গে তাদের মারামারি বাধে। এ সময় সোহেল বন্দুকছি নামে আমাদের একজন আহত হন। তাই আমরা মামলা করব।”

আওয়ামী লীগের প্রার্থী এনামুল হক শামীম বলেন, “আমি শুনছি, ডা. খালিদ শওকতের বাড়ি থেকে বোমা এনে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।  সেখান থেকে বালতিতে করে বোমা এনে মেরেছে। আমার এবং নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নাই। আসলে এটি কোনো নির্বাচনি সংঘর্ষও না; ক্যাবল ব্যবসায়ীদের বিষয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন বোমা ফাটিয়ে আমাদের ওপর দোষ দিচ্ছে।”