২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

লা লিগায় আট মাস পর গোল করে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন আলভারেস

গত বিশ্বকাপ চলার সময় বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর স্বপ্নের কথা বলার পর থেকেই আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকদের তোপের মুখে ছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Oct 2026, 11:47 AM

Updated : 25 Oct 2026, 11:47 AM

অনিশ্চয়তা, বিতর্ক আর টানাপোড়েনের অনেক লম্বা পথ পাড়ি দেওয়ার পর অবশেষে সেই মুহূর্তটি এলো। লা লিগায় দীর্ঘ গোল খরা কাটানোর পর আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে হুলিয়ান আলভারেস। এই ক্লাবের হয়ে নিজের সবটুকু ঢেলে দেওয়ার প্রত্যয়ও শোনালেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

লা লিগায় শনিবার দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার বিপক্ষে আতলেতিকোর জয়ে একমাত্র গোলটি করেন আলভারেস।

আগের ম্যাচেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোল করেছিলেন আলভারেস। তবে লা লিগায় গোল করতে যেন ভুলেই গিয়েছিলেন তিনি। এই ম্যাচের আগে লিগে তার সবশেষ গোল ছিল গত ফেব্রুয়ারিতে রেয়াল ওবিয়েদোর বিপক্ষে। ঘরের মাঠে লা লিগায় সবশেষ গোলটি করেছিলেন তিনি গত নভেম্বরে।

তার ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপার অবশ্য এই গোল খরার কারণে নয়। কারণটি বুঝতে কারও সমস্যা হওয়ার কারণও নেই। গত বিশ্বকাপ চলার সময় আর্জেন্টাইন তারকা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, বার্সেলোনায় পাড়ি জমানো তার স্বপ্ন এবং সেই স্বপ্ন তিনি পূরণ করতে চান।

আলভারেসের সেই মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি আতলেতিকো কর্তৃপক্ষ ও কোচ দিয়েগো সিমেওনে। তারা সাফ জানিয়ে দেয়, এই ফরোয়ার্ডকে কোনোভাবেই ছাড়বে না ক্লাব। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি পর্বে ও ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ সময় পর্যন্ত এই টানাপোড়েন চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আলভারেসের স্বপ্ন পূরণ হয়নি, আতলেতিকোর জেদেরই জয় হয়।

চোটের কারণে মৌসুমের শুরুর দিকে ঠিকমতো মাঠেও নামতে পারেননি আলভারেস। মাঠে নামার পর ঘরের দর্শকদের দুয়ো পেয়েছেন প্রতি ম্যাচেই। কোচের সমালোচনা তো ছিলই। মাঠের ভেতরে-বাইরের চাপে পারফরম্যান্সও করতে পারছিলেন না সেভাবে।

অবশেষে একটু একটু করে নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করেছেন। লা করুনিয়ার বিপক্ষে গোলের পরও অবশ্য গ্যালারির সমর্থকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। তবে ম্যাচ জেতানো গোলের পর প্রায়শ্চিত্তও করতে চাইলেন তার কথা দিয়েও।

“বিশ্বকাপ চলাকালীন আমার বলা ওই কথাগুলির জন্য আমাদের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইতে চাই। আমি যেভাবে নিজেকে প্রকাশ করেছি এবং যে সময় প্রকাশ করেছি, সবই ছিল ভুল।

“সমর্থকদের (ক্ষোভ) বুঝতে পারছি। বিশেষ করে আমি এখানে আসার পর থেকে তারা যেভাবে আমার পাশে থেকেছে। আমার প্রতি তারা খুবই উদার ছিল। আমি নিজেও সমর্থক হলে হয়তো ক্ষুব্ধ হতাম। এখন আমার সময় কাজ শুরু করার এবং নিজের সর্বস্ব দিয়ে দেওয়ার।”

আলভারেস স্বীকার করলেন, সার্বিক পরিস্থিতি তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল। তবে এখন তা পুষিয়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞার কথাও বললেন।

“ক্রমশ ভালো অনুভব করছি। এখানে সবসময় সমর্থন পেয়েছি। উন্নতির জন্য কাজ করছি। এখন শারীরিকভাবে ভালো অনুভব করছি... জীবনে যখন ভালো থাকা যায়, তখন তা মাঠেও ফুটে ওঠে। যদিও আমরা পেশাদার, তবুও সবকিছুরই প্রভাব আছে। আশা করি, কঠোর পরিশ্রম ও বিনয় দিয়ে এই পরিস্থিতিকে পাল্টে দিতে পারব।”

সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর কোচের মনে ক্ষোভের বরফও গলে গেছে। সেরা ফর্মের আলভারেসকে দলের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়, তা ফুটে উঠল কোচের কণ্ঠে।

“যারা ক্ষমা চায়, তাদের প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা আছে, কারণ ক্ষমা চাওয়া সহজ নয়। আমি তার জন্য খুব খুশি। সে এখন নিশ্চয়ই দারুণ শান্তি অনুভব করছে।

“যখন কেউ এভাবে কথা বলে, সেটির কারণ হলো সে সত্যিই তা মন থেকে বলে। তার কথা বলতে গেলে, আমি খুবই আনন্দিত... তাকে আমাদের প্রয়োজন। ক্লাব যদি সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে চায়, যেটির স্বপ্ন সমর্থকরা দেখেন, তাহলে হুলিয়ান আলভারেসকে তার সেরা ফর্মে থাকতে হবে।”