Published : 13 Feb 2025, 01:39 PM
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় তিন জেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে আহত করার পর ডাকাত সাজিয়ে পুলিশে দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
হাতিয়া থানার ওসি একেএম আজমল হুদা জানান, ভুক্তভোগী জেলে মো. কউসার বাদী হয়ে বুধবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেন।
তিনি বলেন, “মামলার এজাহারে জাহাজমারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য জসিম উদ্দিনসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরও ২০/২৫ জনকেও আসামি করা হয়েছে।”
মঙ্গলবার রাতে হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের পূর্ব বিরবিরি গ্রামে সরকারি আবাসন এলাকায় তিন জেলেকে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে হাতিয়া থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদা জানান।
মারধরের শিকার তিন জেলে হলেন- জাহাজমারা ইউনিয়নের পূর্ব বিরবিরি গ্রামের আলী আজগরের ছেলে ফখরুউদ্দিন (২৫), মো. দিলুর ছেলে মো. শাহারাজ উদ্দিন (২৭) এবং কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. কাউসার (২৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, জাহাজমারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাসান মাঝি দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মঙ্গলবার মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরেন। রাতে তাকে দেখতে যান ফখরুউদ্দিন, শাহারাজ ও কাউসার। এতে ক্ষিপ্ত হন হাসান মাঝির প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন। এর জেরে রাত ১০টার দিকে জসিমের অনুসারীরা তিন জেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে।
এক পর্যায়ে তারা তিন জেলের সামনে জাহাজের ছয়টি সিগন্যাল রকেট রেখে সেগুলোকে ‘রকেট লঞ্চার’ আখ্যায়িত করে তাদের ডাকাত সাজিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করে। পরে তাদের থানায় দেওয়া হয়। তখন এসব ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারন করে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ তিনজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং ডাকাতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে দুপুরে পুলিশ তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়। এরপরই সন্ধ্যার দিকে ৫০-৬০ জন নারী গিয়ে থানা ঘেরাও করার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ ও নৌ বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং দুজনকে আটক করে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে ওসি একেএম আজমল হুদা জানান।
৩ জেলেকে গাছে বেঁধে মারধর, 'ডাকাত সাজিয়ে' পুলিশে দিল প্রতিপক্ষ