Published : 18 May 2026, 10:02 PM
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী থেকে দুটি মাছ ধরার নৌকাসহ তিন জেলেকে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া সংলগ্ন নদী থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর স্লুইচঘাট মৎস্য কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শহিদ।
অপহৃতরা হলেন- টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জালিয়াপাড়া এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মো. মুফিজ (২৬), জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মোহাম্মদ ইয়াছিন (১৮) এবং জাফর আলমের ছেলে মোহাম্মদ জামাল হোসেন (৪০)।
মোহাম্মদ শহিদ বলেন, “নাফ নদীতে প্রতিদিনের মতো সকালে মাছ ধরতে যায় জেলেরা। দুপুরের দিকে হঠাৎ আরাকান আর্মির সশস্ত্র সদস্যরা একটি কালো স্পিডবোট এসে তাদের ঘিরে ফেলে। পরে তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুটি মাছ ধরার নৌকাসহ তিন জেলেকে ধরে নিয়ে যায়।”
টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান বলেন, “তিনজন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। তবে ঠিক কী কারণে তাদের আটক করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
স্থানীয় জেলে সুলাইমান ও নুরুল বশর বলেন, জেলেরা নাফ নদীর সীমান্তঘেঁষা অংশে মাছ ধরছিলেন। এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোটে করে এসে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। পরে দুটি নৌকাসহ তাদের মিয়ানমারের কাইচ্যং খালের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
অপহৃত জেলে মো. জামাল হোসেনের স্ত্রী রিনা আক্তার বলেন, “তিন সন্তানের সংসারে আমার স্বামীই একমাত্র উপার্জনকারী। তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরে আমরা চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া মৎস্য সমিতির সভাপতি আব্দুল গনি বলেন, নাফ নদী থেকে একের পর এক অপহরণের ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাদের স্বজনদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “দুটি মাছ ধরার নৌকাসহ তিন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। তাদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
এ সময় সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে বলে জানান তিনি।