Published : 21 Nov 2025, 02:13 PM
ভূমিকম্পের সময় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মালিতা গ্রামে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তির প্রাণ গেছে।
পলাশ থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ভূমিকম্পের সময় মাটির ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে ওই ব্যক্তির ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানের ভবন থেকে হুড়োহুড়ি করে নামার সময় আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ। তারা নরসিংদী সদর ও জেলা হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
তাদের মধ্যে কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পলাশে নিহত ওই ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৬৫ বছর বলে পুলিশ ধারণা করলেও তার নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর জানান, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭।
ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) অবশ্য ভূমিকম্পের মাত্রা দেখাচ্ছে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫। উপকেন্দ্র বলছে নরসিংদী থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণ-পশ্চিমে।
ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত অন্তত ৫৩ জনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে ওই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফরিদা গুলশান আরা কবীর জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের হাসপাতালে বিভিন্ন ভাবে আহত ৫৩ জনকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে চার জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
এছাড়া নরসিংদী জেলা ১০০ শয্যা হাসপাতালে আহত ২০ থেকে ৩০ জন ভর্তি রয়েছেন বলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন।
শুত্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে গোটা জেলাসহ আশপাশের জেলা। এ সময় বিভিন্ন ভবনে অবস্থান করা লোকজন আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে সড়কে বেরিয়ে আসে।
বড় কোন ভবন ধসের ঘটনা না ঘটলেও আনেক ভবন ও বাড়িঘরে ছোট ছোট ফাটল দেখা দিয়েছে।