Published : 09 Jul 2026, 08:05 PM
উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাব কমে আসায় তিস্তা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেলেও এখনও বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীটির পানি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিপৎসীমা স্পর্শ করে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।
ডালিয়া পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহের ওপর নির্ভর করে নদীর পানির স্তর ওঠানামা করছে। উজানে নতুন করে ভারি বৃষ্টিপাত হলে তিস্তার পানির স্তর আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া বিভাগের তিস্তা নদীর পানি পরিমাপ নুরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৬ হতে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১৩ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ২১ সেন্টিমটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ১০ সেন্টিমিটার, বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টায় আরও ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিনের তুলনায় নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বস্তি ফিরতে শুরু করে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে পানি বাড়তে শুরু করায় আবারও কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের। তবে চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার বাসিন্দারা এখনও সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদী প্রথম বিপৎসীমা অতিক্রম করে ২৩ জুন। সেসময় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এরপর পানি নেমে যায়। দ্বিতীয় দফায় ২৮ জুন বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হয়েছিল। যার ১২ ঘন্টা পর পানি কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে।
এরপর ৭ জুলাই তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে রাত ৮টার দিকে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।