Published : 09 Jul 2026, 08:55 PM
মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের অসাধারণ জয় নিয়ে যতটা না আলোচনা হচ্ছে, তার চেয়ে যেন বেশি কথা হচ্ছে জন স্টোন্সের ড্রেসিং রুমের ‘পারফরম্যান্স’ নিয়ে। তার চোট পাওয়ার অভিনয় এখন ভাইরাল। মজার ঘটনাটি এতটা ছড়িয়ে পড়বে, কল্পনাও করেননি ইংলিশ ডিফেন্ডার।
ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিকদের ৩-২ গোলে হারায় ইংল্যান্ড। শ্বাসরুদ্ধকর ওই লড়াইয়ের পর ড্রেসিং রুমে বাঁধভাঙা উদযাপনে করেন দলের সবাই। আর ওই সময় কাঁধে চোট পাওয়ার ভান ধরে মজা করেন স্টোন্স।
ড্রেসিং রুমে উল্লাসের মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে ইংল্যান্ড। সেখানে দেখা যায়, গানের তালে তালে হাততালি দিচ্ছেন কোচ টমাস টুখেলসহ সবাই। এমন সময় ডেক্লান রাইস ইশারা করেন স্টোন্সের দিকে, যিনি বিমর্ষ মুখ নিয়ে কাঁধ চেপে ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
উদযাপন থামিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন চেহারায় সেদিকে তাকিয়ে থাকেন টুখেল। হয়তো ভাবছিলেন, সত্যিই চোট পেল নাকি!
এরপর ধীরে ধীরে কাঁধ নাড়াতে শুরু করেন স্টোন্স এবং কিছুক্ষণ পর মুষ্টিবদ্ধ হাত বাতাসে ছুঁড়ে নাচতে শুরু করেন তিনি। টুখেলের মুখে তখন দেখা যায় স্বস্তির হাসি। এরপর লাফাতে লাফাতে স্টোন্সের কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন জার্মান এই কোচ।
সেই মুহূর্তই হয়ে যায় ভাইরাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ৪ কোটিরও বেশি বার দেখা হয়েছে।
কাঁধের চোটের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মজা করে স্টোন্স বলেন, “এখন ভালো অনুভব করছি, ভালো লাগছে- ভালো-খারাপ মিলিয়েই আছে।”
এমন এক সময় নাটকটি করেন স্টোন্স, যখন জর্ডান হেন্ডারসনের চোট নিয়ে এমনিতেই দুর্ভাবনায় ছিলেন টুখেল। মেক্সিকোকে হারানোর পর গ্যালারির সামনে গিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপন করার সময়, বিজ্ঞাপন বোর্ড থেকে বেকায়দায় পড়ে হাতে গুরুতর চোট পান অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার হেন্ডারসন। পরে জানা যায়, বিশ্বকাপের বাকি অংশ থেকে ছিটকে গেছেন তিনি।
স্টোন্স বলেন, টুখেলের চেহারা দেখে নিজেকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রেখে অভিনয় করার চেষ্টা করছিলেন তিনি।
“যখন ওই ভান করছিলাম, হাসি আটকে রাখার চেষ্টা করছিলাম। কারণ, আমি দেখছিলাম যে, তিনি (টুখেল) বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এবং ভাবছেন, ‘সে কি আসলেই চোট পেল নাকি?’।”
“বিশেষ করে, বাইরে কিছুক্ষণ আগে (মাঠে) হেন্ডারসন যা ঘটিয়েছিল, তিনি (টুখেলে) বুঝতে পারছিলেন না সামনে কী হতে যাচ্ছে। তবে ড্রেসিং রুমের পরিবেশটা দারুণ ছিল।”
এভাবে ছড়িয়ে পড়বে এই ঘটনার ভিডিও, ভাবনাতেও ছিল না স্টোন্সের, “সত্যি বলতে, আমি ভাবিনি এটা এতটা সাড়া ফেলবে।”
আসরে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন স্টোন্স, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ওই লড়াইয়ে ৪-২ গোলে জিতেছিল তারা। পরের দুই ম্যাচে বেঞ্চে ছিলেন এই সেন্টার-ব্যাক। ডি আর কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতা শেষ বত্রিশের ম্যাচে অন্তিম সময়ে মাঠে নামেন তিনি, খেলেন স্রেফ এক মিনিট।
মেক্সিকোর বিপক্ষে ৫৪তম মিনিটে ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ান্সা লাল কার্ড পেলে, উইঙ্গার বুকায়ো সাকাকে তুলে, স্টোন্সকে মাঠে নামান কোচ টুখেল।
কোয়ার্টার-ফাইনালে আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় ৩টায় (এএম) নরওয়ের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।