Published : 30 Jun 2026, 05:15 PM
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগরে দরবারে হামলা করে পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা আসাদুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েতুল কবীরের আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুই আসামি হাই কোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালী জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে তারা আদেশ অনুযায়ী নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে এবং জামিন আবেদন করেছিলেন।
খাজা আহমেদ কুষ্টিয়া জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য এবং আসাদুজ্জামান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলার সভাপতি। খাজা আহমদের বাড়ি ফিলিপনগর এবং আসাদুজ্জামান হোসেনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ১১ এপ্রিল দুপুরে ফিলিপনগরের ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত আস্তানায় শতাধিক লোক হামলা চালায়। তারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং পীর শামীম রেজাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। হামলায় আরও তিন ভক্ত মহন আলী, জামিরুন ও জুবায়ের গুরুতর আহত হন।
ঘটনার দুই দিন পর ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। এতে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদ (৩৮), স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি (৪৫), খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান (৩৫) এবং মাদ্রাসা শিক্ষক মো. শিহাবের (৪৫) নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
ঘটনার দিন জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসের নেতৃত্বে দুই শতাধিক লোক পীরের আস্তানায় হামলা চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন বাদী।
আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: এজাহারভুক্ত আসামি জামায়াত কর্মী গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়ায় 'আস্তানায়' হামলা করে 'পীর'কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা
কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: 'পুরনো ভিডিও ছড়িয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করা হয়'
কুষ্টিয়ার মাজারে পীর হত্যা: মামলা করবে না পরিবার
কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: 'জামায়াত-খেলাফতের নেতৃত্বে' হামলা চালায় দুই