Published : 24 May 2026, 10:53 PM
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে উত্তরাঞ্চলসহ প্রায় ৩২টি জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। ঈদ এলে এ মহাসড়কে মানুষের ঢল নামে, সঙ্গী হয় নানা দুর্ভোগ।
তবে এবার কোরবানির ঈদে মানুষের ঘরমুখো যাত্রায় সেই ভোগান্তি হবে না বলে আশা প্রশাসনের।
কারণ হিসেবে তারা বলছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মহাসড়কের দুইপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হয়েছে। ফলে এবার যান চলাচল নির্বিঘ্ন হবে।
কিন্তু উচ্ছেদের পরেও ভাসমান দোকান, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানোর স্ট্যান্ড, বাজার-গরুর হাটের কারণে যানজটের আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা।
সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের দুইপাশে স্থায়ীভাবে বসা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও সেইসব স্থানে ভাসমান দোকান, বাজার, সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড বসেছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাইপাসে, চুরখাই, বইলর, ত্রিশাল, ভরাডোবা, ভালুকা এবং স্কয়ার মাস্টারবাড়ীসহ কমপক্ষে ১০-১২টি পয়েন্টে রাস্তার ওপর বাস এবং অটোরিকশার স্ট্যাণ্ডের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হবে।
হালুয়াঘাট থেকে ঢাকাগামী ইমাম পরিবহনের চালক সোহেল মিয়া বলেন, “শম্ভুগঞ্জ, পাটগুদাম ব্রিজ মোড়, বাইপাস, চুরখাইসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যাণ্ডে প্রতিবছরই যানজট হয়। এবারও এইসব স্থানে যানজটের আশংকা রয়েছে। কারণ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও স্ট্যান্ড সরানো হয়নি।”
তার দাবি যানজটের আরেকটি অন্যতম কারণ হচ্ছে মহাসড়কে অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল।
মুক্তাগাছা থেকে ঢাকাগামী ইসলাম পরিবহনের চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “যতই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হোক না কেন মহাসড়কের পাশে গরুর হাট বসায় যানজট হবেই। প্রশাসন কঠোর হলে হয়তো যানজট কিছুটা কম হতে পারে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাচল যানজটের আরেক কারণ।”
একই বাসের যাত্রী হামিদুল কায়সার যানজটকে ‘ঈদ আনন্দের একটি অংশ’ বলেই ধরে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “অনেক সময় দেখা যায় একই জায়গায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বসে থাকতে হয় যা বিরক্তির কারণ। মানুষের সচেতনতা এবং প্রশাসনের কঠোরতাই পারে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে।”
ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে দাঁড়ানো চালক উজ্জল মিয়া বলেন, “ঈদে আমাদের জন্য যানজট হয় এটা ভুল কথা। বড় বড় বাসগুলো যখন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে একটু পর পর যাত্রী তুলে মূলত সেই জন্যই যানজট সৃষ্টি হয়।
“তবে এবার আমরা ঈদে স্ট্যান্ড সরিয়ে পাম্পের কাছে নিয়ে যাবো, যাতে যানজটের জন্য কেউ আমাদের দায়ী না করতে পারে।”

ভরাডোবা বাসস্ট্যাণ্ডে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলতে থাকা অটোরিকশা চালক রাজিবুল ইসলাম বলেন, “ঈদে আসলে যানজট হয়ে থাকে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। আমরা মহাসড়কে চলছি তাও নিয়মের বাহিরে। এখন আমাদেরও তো পেট আছে, বাল-বাচ্চা রয়েছে। সিএনজি চালানো ছাড়া তো আর কোনো উপায় নেই।”
এছাড়া কয়েক বছর ধরেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে উঠেছে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। এই প্রকল্পের কারণে মহাসড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। এ কারণে স্বাভাবিক সময়েও এ সড়কে যানজট লেগে থাকে। ঈদের সময় যানবাহন বাড়লে জট দীর্ঘ হয়ে কয়েক ঘণ্টাও ছাড়িয়ে যায়।
এদিকে, ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাস্তা মেরামতের পাশাপাশি সকল ধরণের ব্যবস্থার কথা জানিয়ে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ঘরমুখী মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। পুরো মহাসড়কে প্রায় এক হাজার পুলিশ দায়িত্বে থাকবে। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হয়েছে।
এছাড়া সড়কের ধারে অনিয়মিত পার্কিং বন্ধ ও নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি করা হবে। তাছাড়া এ সময় বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) এর সকল ধরনের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, “২৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ময়মনসিংহের ত্রিশাল সফরে এসেছেন। তার আগেই মহাসড়কে দুইপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে ঈদেও যান চলাচল নির্বিঘ্ন হবে।
“আর আমাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আশা করছি এবার মানুষ স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে”, বলেন তিনি।