Published : 15 Dec 2025, 11:20 AM
সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত কুড়িগ্রামের সন্তান দুই সেনা সদস্যের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
নিহতরা হলেন- সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম (৩৮) ও সৈনিক শান্ত মণ্ডল (২৬)।
মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তারা নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাড়ি দ্রুত ফিরে আসার।
নিহত শান্ত মণ্ডল কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ছাট মাধাই গ্রামের মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা। তিনি সাবেক সেনা সদস্য নুর ইসলাম মণ্ডল ও সাহেরা বেগমের ছোট ছেলে।
তার বড় ভাই সোহাগ মণ্ডলও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন।
আর নিহত মমিনুল ইসলামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার উত্তর পাণ্ডুল গ্রামে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর জানায়, শনিবার দুপুরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি নিহত এবং আটজন আহত হন।

রোববার তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন- কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা (নাটোর); সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম), শামীম রেজা (রাজবাড়ী) ও শান্ত মন্ডল (কুড়িগ্রাম); মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)।
আহত শান্তিরক্ষীরা হলে-লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান (কুষ্টিয়া), সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন (দিনাজপুর), কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি (ঢাকা), ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম (বরগুনা); সৈনিক মো. মেজবাউল কবির (কুড়িগ্রাম), মোসা. উম্মে হানি আক্তার (রংপুর), চুমকি আক্তার (মানিকগঞ্জ) ও মো. মানাজির আহসান (নোয়াখালী)।
আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আইএসপিআর বলছে, তাদের মধ্যে সৈনিক মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
সরেজমিনে রোববার বিকেলে রাজারহাট উপজেলার ছাট মাধাই গ্রামের মণ্ডলপাড়া ও উলিপুর উপজেলার উত্তর পাণ্ডুল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শোকের মাতম চলছে।

নিহত শান্ত মণ্ডলের স্ত্রী দিলরুবা খন্দকার বৃষ্টি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামীর মৃত্যু খবর শোনার পর থেকে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন তিনি।
পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন শান্ত। আর মমিনুল ১৮ বছর আগে সৈনিক পদে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। এ বছর নভেম্বর মাসের ৫ তারিখে তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে যান।
শান্তর স্ত্রী খন্দকার বৃষ্টি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, “সে (শান্ত) আমাকে ছেড়ে যেতে পারে না। সে আমাকে কথা দিয়েছিল দ্রুত ফিরে আসবে। শান্ত আমার কথা ফেলতে পারে না। আমার শান্তকে এনে দাও।”
শান্তর বড় ভাই সোহাগ মণ্ডল বলেন, “শনিবার বিকালেও তার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক ছিল।
রাত সাড়ে দশটার দিকে প্রতিবেশীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি।
“একই এলাকার আরো দুজন সুদানে মিশনে আছে। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হই আমার ভাই মারা গেছে।”
মমিনুলের মা মনোয়ারা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছয় মাস থাকি ছাওয়া মোর বিদেশ যাওয়ার জন্য টেইনিক (প্রশিক্ষণ) করিল। পরে অক্টোবর মাসে ২০ দিনের ছুটিতে আসি সগার কাছত দোয়া নিল। নভেম্বর মাসে যাওয়ার সময় আমায় জড়ায় ধরে বলে মা কান্না করো না। আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো।”
তিনি বলেন, “শনিবার সকালে বাপ মোর ভিডিও কল দিয়ে এলাকার সগারে সাথে কথা কইছে। সকালে মোর বাপ নাস্তা খায়া গেছে, কিন্তু মোর বাপটাক বোম ফেলে দিয়ে মারি ফেলাইছে।
“মোর বাপটা কারো ক্ষতি করে নাই, তাও কেনো ওরা মোর বাপক মারি ফেলাইলো?”