Published : 09 Feb 2026, 01:18 AM
মালদ্বীপের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরুর আলোচনায় অগ্রগতির খবর দিয়েছেন বাংলাদেশ হাই কমিশন।
রোববার হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের হাই কমিশনার মো. নজমুল ইসলাম মালদ্বীপের পরিবহন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
“সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে সরাসরি শিপিং সংযোগ এবং হালাল খাদ্য শিল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা বিশেষ গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ অর্থনৈতিক ও পরিবহন সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে, যা ‘বাণিজ্য সহজীকরণ, বাজার সম্প্রসারণ এবং টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থাপনা’ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
“সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় হ্রাস পাবে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে উভয় পক্ষ অভিমত প্রকাশ করেন।”
হাই কমিশন বলছে, আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সরাসরি শিপিং সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি। হাই কমিশনার এ আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে মালদ্বীপের মন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং যত দ্রুত সম্ভব এই সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা বলেন।
“তিনি বলেন, সরাসরি শিপিং চালু হলে পরিবহন ব্যয় কমবে, লজিস্টিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমেয়তা বাড়বে এবং এর সুফল রপ্তানিকারক, আমদানিকারক ও ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে।”
হালাল খাদ্য শিল্পে সহযোগিতার ‘বিস্তৃত সম্ভাবনা’ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। হাই কমিশনার আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ‘হালাল সার্টিফায়েড খাদ্যপণ্য’—যেমন প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পানীয় ও প্যাকেটজাত পণ্য সরবরাহে বাংলাদেশের সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন।
“তিনি এ খাতে বিনিয়োগ, সরবরাহ চেইন উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় মালদ্বীপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালদ্বীপের মন্ত্রী সরাসরি শিপিং চালুর উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এটা সম্ভব হলে পণ্য পরিবহন সহজী হবে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঘটবে এবং আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হেবে।
তিনি কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে মালদ্বীপের বিমানবন্দর ও সামুদ্রিক অবকাঠামো ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও বৈঠকে বলেন।
বাংলাদেশকে ‘গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী’ হিসেবে বর্ণনা করে মোহাম্মদ আমিন অতীতে এক সংকটকালে বাংলাদেশের সুপেয় পানি পাঠানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, পরিবহন ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সকল উদ্যোগ জাতীয় নীতিমালা ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হবে।
হাই কমিশনার নজমুল ইসলাম আগামী মার্চ থেকে মালদ্বীপের জাতীয় বিমান সংস্থা মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশে পুনরায় ফ্লাইট চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান।