Published : 20 Jan 2026, 01:35 PM
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ঘোষিত ৪১ জন কমার্শিয়ালি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (সিআইপি)-এর সম্মানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মিট দ্য সিআইপিজ’ শীর্ষক মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা।
শুক্রবার স্থানীয় সময় রাতে বাংলাদেশ দূতাবাস মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রবাসী উদ্যোক্তারা তাদের সাফল্যের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
এবারও প্রবাসী সিআইপিদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী নির্বাচিত ৮৬ জন প্রবাসী সিআইপির মধ্যে ৪১ জনই আমিরাতে বসবাসকারী। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখায় দুই ক্যাটাগরিতে মোট ৪১ জন প্রবাসী ব্যবসায়ী এই স্বীকৃতি পান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দূতাবাসের ডেপুটি মিশন প্রধান শাহনাজ আক্তার রানু। তিনি সিআইপিদের রাষ্ট্রের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “প্রবাসীরা ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন।”
মতবিনিময় পর্বে সিআইপিরা আমিরাতে শ্রমিক ভিসা বন্ধ থাকা, মৃতদেহ পরিবহন সুবিধা, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সেবার মান, দূতাবাস ও কনসুলেটে সেবা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা দেশে বিনিয়োগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এ ক্ষেত্রে দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন।
দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, “সিআইপিরা কেবল দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীলই করেননি, বরং তা এগিয়ে নিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”
শূন্য হাতে প্রবাস জীবন শুরু করে সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পকে ‘প্রেরণাদায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ। সীমিত আয়ের প্রবাসীরা যেন বিনা খরচে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ উল্লাহ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জনতা ব্যাংকের কার্যনির্বাহী কামরুজ্জামান এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শাহাদাৎ হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিরা।
এবছর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী ক্যাটাগরিতে ৪০ জন এবং বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক ক্যাটাগরিতে ১ জন সিআইপি নির্বাচিত হন। অনুষ্ঠান শেষে নির্বাচিত সিআইপিদের হাতে ফুলের তোড়া ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ।