কার্ডে খাদ্যপণ্য বিক্রি হলে ‘দুর্নীতির’ নতুন জায়গা খুলবে: ফখরুল
ফখরুলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ‘রাষ্ট্রের সকল সম্পদ ভোগ করবার জন্য’ একের পর এক বিভিন্ন রকম ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রকল্প গ্রহণ করছে।
কার্ডের মাধ্যমে ওএমএস এর খাদ্যপণ্য বিক্রি হলে ‘দুর্নীতির’ নতুন জায়গা তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, “তারা (সরকার) তো এটা স্বীকারই করতে চায় না দেশে একটা অর্থনৈতিক সংকট চলছে, দেশে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে। যেটা ভয়ংকর মারাত্মক যে, ওএমএসের কার্য্ক্রম তারা বন্ধ করে দেবে এবং কার্ডের মাধ্যমে তারা আবার চাল বিক্রি করবে বা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করবে।”
খোলাবাজারে চাল, আটার মত জরুরি খাদ্যপণ্য বিক্রির ওএমএস কার্যক্রমে ব্যবস্থাপনার ঘাটতি নজরে পড়ায় সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে কার্ডের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “কার্ডের মাধ্যমে নিত্যপণ্য বিক্রিতে আরেকটা দুর্নীতির জায়গা খুলবে।“
মঙ্গলবার সকালে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছিলেন মির্জা ফখরুল।
কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত মিঠাইন সফরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নিমন্ত্রণের বিষয়ে ‘কটাক্ষ’ করে বিএনপি মহসাচিব বলেন, “যেহেতু জনগণের প্রতি দায়-দায়িত্ব এ সরকারের নেই, সেই কারণে তারা এখন উৎসব শুরু করেছে।”
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমাদানির সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, “দেখুন সরকার বিদ্যুৎ চুক্তি করেছে ভারতের আদানি কোম্পানির সঙ্গে। সেই বিদ্যুৎ চুক্তি অপ্রয়োজনীয় চুক্তি, অসম চুক্তি। যে কারণে বাংলাদেশকে শুধু পয়সাই দিতে হবে, বেশি লাভ পাবে না।
“এই ধরনের চুক্তিগুলোর মধ্য দিয়ে, এই ধরনের প্রজেক্টের মধ্য দিয়ে তারা সম্পদ লুট করেছে, বিদেশে সম্পদ গড়ছে।”
এই বিএনপি নেতা বলেন, “সবচেয়ে মারাত্মক বিষয়টি হচ্ছে, সরকারের জবাবদিহিতার জন্য কোনো পার্লামেন্ট নেই। যে পার্লামেন্ট আছে সেটা জনগণের নির্বাচিত নয়।”
ফখরুলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ‘রাষ্ট্রের সকল সম্পদ ভোগ করবার জন্য’ একের পর এক বিভিন্ন রকম ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রকল্প গ্রহণ করছে।
“সেইসব প্রকল্পের টাকা লুট করছে, পাচার করছে এবং বিদেশে সম্পদ গড়ে তু্লেছে।“
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ‘আন্দোলনের বিকল্প নেই’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা আন্দোলন শুরু করেছি। এই আন্দোলনে আমাদের ১৭ জন নেতা-কর্মীকে রাজপথে হত্যা করেছে। সেই কারণে বলছি, আন্দোলন আন্দোলন আন্দোলন করেই এই গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট সরকারকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।”
জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর সময় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মুনায়েম মুন্নাসহ নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ছিলে।
এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, যুব দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মামুন হাসানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের মে মাসে টুকুকে সভাপতি ও মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি টুকু-মুন্নার নেতৃত্বে যুবদলের ২৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
