বিএনপির ‘ভাব’ কোথায় গেল, প্রশ্ন কাদেরের

কাদের বলেন, “তাহলে লাল কার্ড দেখিয়েছে কারা? বিজয় মিছিল করবেন সরকারের পতন ঘটিয়ে? এই সব অনেক কথা বিএনপি নেতারা অবিরাম তোতা পাখির মত বুলি আউড়িয়ে গেছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Nov 2022, 10:15 AM
Updated : 18 Nov 2022, 10:15 AM

এতদিন গণ আন্দোলনে সরকার নামানোর ঘোষণা দিয়ে আসা বিএনপি নেতাদের কথায় এখন ভিন্ন সুর পাচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার দলীয় এক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “১০ তারিখে এখন ডিফেন্সিভ মুড কেন? মনে হয় তো এই... ক্ষমতা নিয়ে গেল। মনে হয় এই হাওয়া ভবন এসে গেল। মনে হয় এই তো ফিরে গেলাম ময়ূর সিংহাসনে।

"এই রকম একটা ভাব ছিল না? কোথায় গেল সেই ভাব।”

জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিএনপির আন্দোলনে পাঁচ নেতা-কর্মীর নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করছে বিএনপি।

১০ ডিসেম্বরে ঢাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে তাদের এ কর্মসূচি শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার কথা রয়েছে।

নির্বাচনের এক বছর বাকি থাকতে বিএনপির আন্দোলন যখন চাঙ্গা হচ্ছে, তখন আওয়ামী লীগও মাঠ দখলে রাখার ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

ওবায়দুল কাদেরের ‘খেলা হবে’ স্লোগান ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইতোমধ্যে ছয় বিভাগে সমাবেশের কর্মসূচি শেষ করা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় তাদের বিভাগীয় সমাবেশ ‘বানচাল’ করতে ক্ষমতাসীনরা ‘বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে’।

“সামগ্রিকভাবে এমন একটা আবহাওয়া তৈরি করছে ঢাকার বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে, যেন মনে হচ্ছে যে, ১০ তারিখে (১০ ডিসেম্বর) ঢাকায় একটা যুদ্ধ হবে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা খুব স্পষ্ট করে বলেছি, এখনো বলছি, আবারো বলছি, ঢাকার সমাবেশটা হচ্ছে আমাদের একটা বিভাগীয় সমাবেশ। আমরা যে ১০ বিভাগকে কেন্দ্র করে বিভাগীয় শহরে সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছিলাম, সেই সমাবেশগুলোর লাস্ট সমাবেশটা হচ্ছে ঢাকায়।”

বিএনপি মহাসচিবের ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া আসে শুক্রবার সৈনিক লীগের প্রথম সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের কথায়।

সেতুমন্ত্রী বলেন, “এখন বলে কিনা- আমাদের তো এই ধরনের কোনো চিন্তা ছিল না। তাহলে লাল কার্ড দেখিয়েছে কারা? কারা লাল কার্ড দেখালো? বলেন,বলছে না? ঢাকার রাজপথে বিজয় মিছিল হবে। তাই না? বলছে না? বিজয় মিছিল করবেন সরকারের পতন ঘটিয়ে? এই সব অনেক কথা বিএনপি নেতারা অভিরাম তোতা পাখির মত বুলি আউড়িয়ে গেছে।

“ফখরুল এখন বলে... অনিশ্চয়তার দিকে আমরা (আওয়ামী লীগ) নিয়ে যাচ্ছি। আজকে আমরা জানি তাদের জ্বালাটা কোথায়, তাদের বুকের ব্যথা মনের জ্বালা অন্তর্জ্বালা। আমরা বুঝি কেন।”

বিএনপি নতুন কৌশল করছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এখন ভিন্ন সুর... না জানি কী কৌশল। এখন মুখে বলছে আমাদের সমাবেশ হবে অনুমতি চাই। মুখে হল রক্ষণাত্মক মনোভাব, আর অন্তরে হচ্ছে আক্রমণাত্মক শোডাউন।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিএনপির চক্রান্তের অভিযোগ তুলে কাদের বলেন, “এত চেষ্টার পরেও শেখ হাসিনা কেন বেঁচে আছে। তাদের প্রধান শত্রু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির প্রধানতম শত্রু হচ্ছে শেখ হাসিনা এবং তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত, কেন তিনি এত দিন ক্ষমতায় আছেন।

“জ্বালা কেন? বুঝি। তারা (বিএনপি) যেভাবে যাচ্ছে, তারাই অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। শেখ হাসিনাকে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে ফেলবেন? ভয় দেখিয়ে সরিয়ে ফেলবেন? শেখ হাসিনা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না।”

বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা প্রস্তুত আছি, খেলা হবে। ডিসেম্বরে খেলা হবে হবে, ভোট চুরির বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে খেলা হবে... নির্বাচনে আসল খেলা। ফাইনাল খেলা হবে...। নির্বাচনে আসুন, তখন দেখা যাবে জনগণ কার সঙ্গে আছে। শেখ হাসিনা কত জনপ্রিয় নির্বাচন হলে আবারও টের পাবেন।”

বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কমিটি

সম্মেলন শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। এতে সভাপতি হয়েছেন এশিয়ান টেলিভিশনের কর্ণধার হারুন অর রশীদ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন তানজিল বিন রহমান তুর্জ।

সহ-সভাপতি হয়েছেন শহীদুর রহমান, এএসএম শামসুদ্দোহা, এম এ কাশেম, শওকত আজম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ এলাহী শিমুল ।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সাংসদ শিরিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার সারোয়ার হোসেনসহ বক্তব্য দেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক