স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে খালেদা জিয়া

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Feb 2024, 01:38 PM
Updated : 8 Feb 2024, 01:38 PM

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে রওনা হয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান বলে জানান তার ব্যক্তিগত চিকিতসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, “হেলথ চেকআপের জন্য ম্যাডামকে এভারকেয়ার হসপিটালে আনা হয়েছে। কয়েকটি জরুরি পরীক্ষা করতে হবে। এটা মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ।

‘‘টেস্টগুলো হওয়ার পর মেডিকেল বোর্ড বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন।”

দীর্ঘ ৫ মাস এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর গত ১১ জানুয়ারি গুলশানের বাসায় ফেরেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা। বাসায় মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে তার চিকিৎসা চলছিল।

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়া এবং দেশের বাইরে না যাওয়ার শর্তে ২০২০ সালের মার্চে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়।

তার সেই সাময়িক মুক্তির মেয়াদ প্রতি ছয় মাস পরপর বাড়ানো হলেও তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দেয়নি সরকার।

মুক্তি পাওয়ার পর কোভিড, লিভার জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে পাঁচ দফা হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে বিএনপি নেত্রীকে। সর্বশেষ গতবছর ৯ অগাস্ট তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা চলে।

গত অক্টোবরে মেডিকেল বোর্ড সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়। দ্রুত বিদেশে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে তার লিভার প্রতিস্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।

এরপর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে আবারও বিদেশ নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে। তবে আইনে সে সুযোগ না থাকায় এ অনুমোদন দেয়নি সরকার।

এ চেষ্টার মধ্যে তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার পাশাপাশি বিদেশ থেকেও চিকিৎসক এসে তার চিকিৎসা দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের লিভার ও কিডনি প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হামিদ আহমাদ আবদুর রব, ইন্টারভেনশনাল অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ক্রিসটোস স্যাভাস জর্জিয়াডেস এবং হেপাটোলজির অধ্যাপক জেমস পিটার হ্যামিলটন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার লিভারে রক্তক্ষরণ বন্ধে ট্রান্সজুগলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোরটোসিসটেমিক সান্ট (টিপস) সম্পন্ন করেন।

আরও পড়ুন:

৫ মাস পর বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া

৩ ঘণ্টা পর সিসিইউ থেকে কেবিনে খালেদা জিয়া

খালেদার জন্য আসা বিদেশি চিকিৎসকরা কাজ শুরু করেছেন

খালেদা জিয়া আবার এভারকেয়ারে ভর্তি