“আদালতের এই ধরনের নির্দেশনা তো আগেও ছিল। তাতে কি উনার কণ্ঠস্বর দেশবাসী কি শুনতে পায়নি?”- দলের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রশ্ন রিজভীর।
Published : 28 Aug 2023, 06:38 PM
তারেক রহমানের বক্তব্য সব অনলাইন থেকে সরাতে হাই কোর্টের আদেশ প্রত্যাখান করেছে বিএনপি।
মঙ্গলবার আদেশের পর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তার অভিযোগ, ‘‘এটা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা পূরণের রায়। তার মনের ইচ্ছা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এই রায়ের মধ্য দিয়ে। আদালতের বেঞ্চে যে দুইজন বিচারক, তারা যে আদেশ দিয়েছেন এই আদেশের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী চেতনার যে রায় সেটি দিয়েছেন।
‘‘আমি এই আদেশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রত্যাখান করছি দলের পক্ষ থেকে এই অবিচারমূলক রায়ের বিরুদ্ধে। আদালতের এ ধরনের আদেশ ফ্যাসিজমের আরেকটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।”
এদিন লন্ডনে বসবাসকারী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সব বক্তব্য অনলাইন থেকে সরাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
তার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত রুল শুনানির মধ্যে বাদীপক্ষের এক সম্পূরক আবেদনে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।
তারেক রহমানের বক্তব্য অনলাইন থেকে সরানোর নির্দেশ, আদালতে হট্টগোল
তারেকের বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞা: রুলে পক্ষভুক্তির আবেদন খারিজ
বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞা: ই-মেইলেও তারেক রহমানকে নোটিস পাঠানো যাবে
বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞা: তারেকের ঠিকানা সংশোধন করে নতুন আবেদনের নির্দেশ
এরপর সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রতিক্রিয়া তুলে ধরতে গিয়ে রিজভী অভিযোগ করেন, ‘‘তারা গণতন্ত্রকে মুছে ফেলতে চান, তারা নিশ্চিহ্ন করতে চায় বলেই গণতন্ত্রের পক্ষের যে প্রধান কণ্ঠস্বর দেশনায়ক তারেক রহমানের সমস্ত কথা, বক্তব্য ইউটিউব, ফেইসবুকসহ সমস্ত সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন থেকে সরাতে চাচ্ছে।”
তিনি বলেন, ‘‘আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, তারেক রহমান অনেক দূরে আছেন, লন্ডনে অবস্থান করছেন। আপনারা আদালতের এই ধরনের নির্দেশনা তো আগেও ছিল। তাতে কি উনার কণ্ঠস্বর দেশবাসী কি শুনতে পায়নি? উনার নির্দেশনা ও নেতৃত্ব কি আমরা যারা এই দলের সাথে সংশ্লিষ্ট আছি আমরা কি তার নেতৃত্ব অনুভব করি না, আমরা কি তার নির্দেশ পাই না। আমরা নিশ্চয়ই পাই।
‘‘আজকে যুগ পাল্টিয়েছে, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি অনেক দূর এগিয়েছে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিজমের বিধিনিষেধ অতিক্রম করে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এগিয়ে গেছে। জনগণ শুনতে পাবে, দলের নেতাকর্মীরা শুনতে পাবে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের যে নির্দেশ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রাম বিজয়ের সম্মুখ দুয়ারে পৌঁছানো পর্যন্ত তার যে নেতৃত্ব সেই নেতৃত্ব অব্যাহত থাকবে।”
বিএনপি বর্তমান আন্দোলনকে ‘গণতান্ত্রিক’ মন্তব্য করে এ আন্দোলনে বিজয়ের পর তারেক রহমান দেশে ফিরে এসে প্রত্যক্ষভাবে নেতৃত্ব দেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘‘প্রধান বিচারপতির কাছে অন্য আদালতে এই রিট বদলির জন্য আবেদন করা হলেও সেটিকে গ্রাহ্য না করে আদালতের আদেশ দেওয়া সম্পূর্ণরূপে ন্যায় বিচারকে পদদলিত করা।”
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, “আদালতের এ ধরনের আদেশের নামে নিকৃষ্ট প্রহসন করা হয়েছে। বিচারপতিদের এই আদেশ শেখ হাসিনার আমলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আর বিন্দুমাত্র আস্থা রইল না। যে দেশে আইনের শাসন নেই, যে দেশে ফ্যাসিবাদ সর্বত্র পরিব্যাপ্ত সেসব দেশ ছাড়া আদালতের এহেন বিবেকহীন পক্ষপাতমূলক রায় প্রদান নজীরবিহীন।”
তিনি বলেন, ‘‘এহেন অবিচারের আদালত শেখ হাসিনার বদৌলতেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। যে কারণে আমরা উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের মুখ থেকে শুনতে পেয়েছি, তারা না কি ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’। আজ সকালে হাই কোর্টের দুজন বিচারপতির আদেশেও সেটি নগ্নভাবে ফুটে উঠেছে।”
মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল আদালত মন্তব্য করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সেই আস্থা নষ্ট হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা রাকিবুল ইসলাম বকুল, নিলোফার চৌধুরী মনি, মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।