তারেক রহমানকে সমন পাঠানোর ক্ষেত্রে জটিলতার কারণে আট বছরেও মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত করা যায়নি।
Published : 10 Aug 2023, 02:56 PM
আইনের দৃষ্টিতে ‘পলাতক’ বিএনপি নেতা তারেক রহমানের বক্তব্য-বিবৃতি প্রচার-প্রকাশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নোটিস পাঠানোর জন্য তার ঠিকানা সংশোধন করে নতুন করে আবেদনের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রিট আবেদনকারীর আইনজীবীকে এ নির্দেশ দেন।
সাড়ে আট বছর আগের এ মামলা শুনানির জন্য প্রস্তুত করতে এর আগে কয়েকবার শুনানি হয়। কিন্তু তারেক রহমানকে সমন পাঠানোর ক্ষেত্রে জটিলতার কারণে মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত করা যাচ্ছে না।
গত মঙ্গলবারের শুনানিতে তারেককে সমন পাঠানোর বিকল্প উপায় খুঁজতে বলেছিল হাই কোর্ট। সে বিষয়ে আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার মামলাটি কার্যতালিকায় আসে।
রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম ও অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লুনা। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগপন্থি বহু আইনজীবীও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বদরুদ্দোজা বাদল, রুহুল কুদ্দুস কাজল ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম সজলসহ আরও অনেক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি শেষে বদরুদ্দোজা বাদল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তাদেরকে (রিটকারী) আবেদন কারেকশন করতে বলেছে। কারেক্ট করে আনুক আগে।)
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রেজাউল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রিটে তারেকের ঠিকানার এক জায়গায় ‘রোড’ এর জায়গায় ‘রুম’ লেখা হয়েছে। আদালত সেটা ঠিক করে দিতে বলেছে রিটকারীকে।
১৫ বছর ধরে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। এই সময়ে তার অনুপস্থিতিতেই পাঁচ মামলায় তার সাজার রায় হয়েছে।
সাড়ে আট বছর আগে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তারেককে নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ‘আইনের দৃষ্টিতে পলাতক’ থাকা অবস্থায় তার বক্তব্য বা বিবৃতি সব ধরনের গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধ করে হাই কোর্ট।
নাসরিন সিদ্দিকী লিনা নামে এক আইনজীবীর রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ রুলসহ ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়।
সম্প্রতি নয়া পল্টনে বিএনপির এক সমাবেশে তারেক রহমানের ভিডিও বক্তব্য প্রচার করা হলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। রিটকারী পক্ষ তখন হাই কোর্টের সেই রুল শুনানির উদ্যোগ নেয়।
তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে হাই কোর্ট রুল জারি করেছিল ওই সময়। রুলে তথ্য ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল।
রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে বলে ওই সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন।
চার সপ্তাহের মধ্যে তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, একুশে টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও তারেক রহমানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
একইসঙ্গে তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের ওই সময়ের অবস্থা জানাতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। পুলিশ মহাপরিদর্শককে তারেকের পাসপোর্টের মেয়াদ জানিয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল, সেজন্য সময় দেওয়া হয়েছিল ৩০ দিন।
কিন্তু তারেক রহমানকে এ বিষয়ে নোটিস পাঠানো যায়নি বলে সাড়ে আট বছরেও রিট মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়নি।
পুরনো খবর
তারেককে সমন পাঠানোর বিকল্প খুঁজতে বলল হাই কোর্ট
তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার রুল শুনানির জন্য প্রস্তুত নয়