“গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণরা ধারাবাহিকভাবে তাদের স্বাধীনতা ও অধিকার সংকুচিত হতে দেখেছে,” বলেন তিনি।
Published : 04 Apr 2025, 10:46 AM
যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনই সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকারে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেছেন, “আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করব।”
শুক্রবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন বলে বাসস জানিয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে একটি নৃশংস সামরিক বাহিনীর দীর্ঘ ৯ মাসের গণহত্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লাখ লাখ সাধারণ নারী-পুরুষ, শিশু ও যুবক সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে।
তিনি বলেন, “আমাদের জনগণ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মুক্ত সমাজ চেয়েছিল, যেখানে প্রতিটি সাধারণ মানুষ তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।
“দুঃখজনকভাবে, গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণরা ধারাবাহিকভাবে তাদের স্বাধীনতা ও অধিকার সংকুচিত হতে দেখেছে। তারা রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয় ও নাগরিক অধিকারের অবমাননা প্রত্যক্ষ করেছে।”
সরকারপ্রধান বলেন, সাধারণ জনগণ একটি নৃশংস স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ২ হাজার নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যাদের বেশিরভাগই তরুণ এবং ১১৮ জন শিশু।
ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ তার ইতিহাসে এক নবজাগরণ প্রত্যক্ষ করেছে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যেসব ছাত্রনেতা এই গণজাগরণে নেতৃত্ব দিয়ে শেখ হাসিনার দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে, তারা এই সংকটময় মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে তাকে অনুরোধ করেছিল।
“আমি আমাদের জনগণের স্বার্থে এই দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হয়েছি।”
সরকার প্রধান বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বলিষ্ঠ ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার গ্রহণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইউনূস বলেন, “সুশাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার প্রশ্নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিষয়গুলোই আমাদের পরিকল্পিত সংস্কারের মূল লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যাতে জনগণের মালিকানা, জবাবদিহিতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, এই কমিশনগুলো ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে, যা বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করেছি। আমি নিজেই যার নেতৃত্ব দিচ্ছি এবং এতে ছয়টি কমিশনের প্রধানরা রয়েছেন।
“ওই কমিশনগুলো যে সুপারিশগুলো জমা দিয়েছে, তা পর্যালোচনা এবং গ্রহণ করার জন্য এ কমিশন গঠন করা হয়েছে।”
সরকার প্রধান জানান, সংবাদমাধ্যম, স্বাস্থ্য, শ্রম এবং নারী অধিকার সংক্রান্ত নীতিগত সুপারিশ দেওয়ার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি আরো চারটি কমিশন গঠন করেছে।
ইউনূস বলেন, “আমরা যখন বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করছি, তখন আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে অবিচলভাবে কাজ চালিয়ে যাব, তারা নারী হোক কিংবা জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু হোক।”
অনুষ্ঠানে থাই প্রধানমন্ত্রী এবং সম্মেলনের চেয়ারপার্সন পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা, বিমসটেক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মনি পান্ডে এবং বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
থাই বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক
এদিকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে থাই বিশিষ্টজনদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।