ট্রাম্প বুধবার বিভিন্ন দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে কোভিড মহামারীর পর সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে।
Published : 05 Apr 2025, 12:05 AM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিদেশিদের ওপর শাস্তিস্বরূপ শুল্ক চাপাচ্ছেন বলে দাবি করে আসলেও তার এ পদক্ষেপে আদতে বেশিরভাগ আমেরিকানই সাজা পাচ্ছে।
হঠাৎ করেই উল্টে যাচ্ছে বাজারের পরিস্থিতি। ব্যবসায়ী নেতারা হয়ে পড়ছেন আতঙ্কিত। ভোক্তারা খবর পড়ে হয় খুবই বিভ্রান্ত, নয়ত আতঙ্কিত অথবা দুটোই হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক কর্মসূচি বাঁকা চোখে দেখছেন কিংবা কোনওভাবে একে অর্থবহ করার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখনও বিশ্বে ঈর্ষণীয়। তবুও ট্রাম্পের বিশ্বাস, তার দেশের অর্থনীতি বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর অন্যায় বাণিজ্য চর্চার শিকার হচ্ছে।
তাই বিদেশিদেরকে সাজা দিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতকে চাঙ্গা করতে ট্রাম্প শুল্ককেই হাতিয়ার করেছেন। এই নীতিতে তিনি অনড়। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি মন্দায় পড়লেও তার কোনও পরোয়া নেই।
ট্রাম্পের দাবি শুল্ক আরোপ হলে বিদেশের অর্থনীতি ধাক্কা খাবে। তার এই কথাটি ভুল নয়। কিন্তু তাতে যে তার নিজ দেশের নাগরিকরাও সাজা ভুগবে সেই সত্যটিকে তিনি এখন পর্যন্ত গা ঝাড়া দিয়ে এসেছেন।
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক ঘোষণার জেরে এরই মধ্যে ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। বুধবার ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করার পর মার্কিন শেয়ার বাজারে বড় ধস নেমেছে। পরিসংখ্যান বলছে, কোভিড মহামারীর পর এত বড় ধস আর দেখা যায়নি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। ২০২০ সালের কোভিড মহামারীর পর সবচেয়ে বড় পতন এটি। একইদিন ডাও জোন্স সূচক ৪ শতাংশ কমেছে এবং নাসডাক প্রায় ৬ শতাংশ পড়ে গেছে।
২০২০ সালের জুনে কোভিড সংকটে খারাপ সময় পার করার পর এবারের সবচেয়ে খারাপ এই দিনে বন্ধ হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান শেয়ার বাজার।
বুধবার হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, আমদানিকৃত পণ্যের ওপর কমপক্ষে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বাড়বে এবং দেশীয় শিল্পে নতুন গতি আসবে।
যদিও বিশ্লেষকদের বক্তব্য, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে এবং প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্ব বাণিজ্যের ধারা নতুন করে তৈরিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ ট্রাম্প অবশ্য এসব নিয়ে চিন্তিত নন। শেয়ার বাজারে ধস নিয়ে উদ্বেগও তিনি নাকচ করেছেন। তার কথায়, যুক্তরাষ্ট্রে শ্রম বাজার শক্তিশালী আছে।
স্যোশাল মিডিয়ায় অনুসারীদেরকে তিনি বলেছেন, আমরা হারতে পারি না। আশার বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলছেন, অর্থনীতি আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে।
দ্বিতীয় বার মার্কিন প্রেসিডেন্টের আসনে বসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি বদলে ফেলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যেব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য থেকে যত শুল্ক নেয়, তাদের উপরেও পাল্টা ততটাই শুল্ক চাপানো হবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের কথাই কেবল মাথায় রাখবে তার প্রশাসন।
বুধবার ট্রাম্পের শুল্কের তালিকায় চীনের পণ্যে ৩৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ভিয়েতনামের পণ্যে ৪৫ শতাংশ, থইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ শুল্কারোপের কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। চলতি মাস থেকেই এই বাড়তি শুল্ক কার্যকর হবে।
ট্রাম্পের নতুন নীতিতে প্রায় প্রতিটি দেশের পণ্যেই ন্যূনতম ১০ শতাংশ হারে শুল্কারোপ হয়েছে। বুধবার ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছাপ্রকাশ করা ছাড়াও মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া গাড়ির উপর শুল্ক আরোপ হওয়ায় বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা অন্যান্য দেশে গাড়ি উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। ডলারের মূল্য হ্রাস পাওয়াও চিন্তায় ফেলছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের। আগামী দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতিতে পড়ার আশঙ্কায় আছে তারা।
তবে দেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে রূপক অর্থে ট্রাম্প বলেছেন, “রোগী খুবই অসুস্থ ছিল। অস্ত্রোপচার হয়েছে। রোগী এখন সুস্থ হয়ে উঠছে। সে আরও মজবুত হবে। আরও ভাল হয়ে উঠবে। আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে আরও প্রাণচ্ছোল হবে।”