১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞা: ই-মেইলেও তারেক রহমানকে নোটিস পাঠানো যাবে

ফ্যাক্স বা ই-মেইলেও সমন পাঠানো যায়, সেক্ষেত্রে তা মামলার আবেদনকারীকে নিজ খরচে পাঠাতে হবে।  

বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞা: ই-মেইলেও তারেক রহমানকে নোটিস পাঠানো যাবে

তারেক রহমান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2023, 03:25 PM

Updated : 13 Aug 2023, 03:25 PM

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার মামলায় ঠিকানা সংশোধন করে রুলের নোটিসে জারির নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। ই-মেইলেও নোটিস পাঠানো যাবে বলে আদালতের আদেশে জানানো হয়েছে।  

বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

রিটকারীর পক্ষে এদিন শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল ইসলাম ও সানজিদা খানম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রেজাউল হক।

গত বৃহস্পতিবার রিটকারীকে ঠিকানা সংশোধন করে সমন জারির জন্য আবেদন করতে বলেছিল হাই কোর্টের একই বেঞ্চ। সে অনুযায়ী রিটকারী ঠিকানা সংশোধন করে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে আদেশ দেয়। 

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রেজাউল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রিটে তারেকের ঠিকানার এক জায়গায় ‘রোড’ এর জায়গায় ‘রুম’  লেখা হয়েছিল। আদালত সেটা ঠিক করে আবেদন করতে বলে রিটকারীকে। সেটা সংশোধন করে আনলে তা তারেকের এখানকার ঠিকানায় টানিয়ে জারি করার আদেশ দেয়।

“এছাড়া অন্যভাবেও সমন পাঠানো যায়। তা হল ফ্যাক্স ম্যাসেজ বা ই-মেইলে। সেক্ষেত্রে তা মামলার আবেদনকারীকে নিজ খরচে পাঠাতে হেবে। আমি আদালতকে সে আইন দেখালে তা মঞ্জুর করেছে।”  

সাড়ে আট বছর আগের এ মামলা শুনানির জন্য প্রস্তুত করতে এর আগে কয়েকবার শুনানি হয়। কিন্তু তারেক রহমানকে সমন পাঠানোর ক্ষেত্রে জটিলতার কারণে মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত করা যাচ্ছে না।

১৫ বছর ধরে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। এই সময়ে তার অনুপস্থিতিতেই পাঁচ মামলায় তার সাজার রায় হয়েছে।

সাড়ে আট বছর আগে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তারেককে নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ‘আইনের দৃষ্টিতে পলাতক’ থাকা অবস্থায় তার বক্তব্য বা বিবৃতি সব ধরনের গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধ করে হাই কোর্ট।

নাসরিন সিদ্দিকী লিনা নামে এক আইনজীবীর রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ রুলসহ ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়।

সম্প্রতি নয়া পল্টনে বিএনপির এক সমাবেশে তারেক রহমানের ভিডিও বক্তব্য প্রচার করা হলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। রিটকারী পক্ষ তখন হাই কোর্টের সেই রুল শুনানির উদ্যোগ নেয়।

তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে হাই কোর্ট রুল জারি করেছিল ওই সময়। রুলে তথ্য ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল।

রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে বলে ওই সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন।

চার সপ্তাহের মধ্যে তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, একুশে টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও তারেক রহমানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

একইসঙ্গে তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের ওই সময়ের অবস্থা জানাতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। পুলিশ মহাপরিদর্শককে তারেকের পাসপোর্টের মেয়াদ জানিয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল, সেজন্য সময় দেওয়া হয়েছিল ৩০ দিন।

কিন্তু তারেক রহমানকে এ বিষয়ে নোটিস পাঠানো যায়নি বলে সাড়ে আট বছরেও রিট মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়নি।

আরও খবর-

পুরানো খবর:

বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞা: তারেকের ঠিকানা সংশোধন করে নতুন আবেদনের নির্দেশ

পুরানো খবর:

তারেককে সমন পাঠানোর বিকল্প খুঁজতে বলল হাই কোর্ট

পুরানো খবর:

তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার রুল শুনানির জন্য প্রস্তুত নয়

পুরানো খবর:

তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার রুল শুনানির উদ্যোগ