মামলা শুনানির জন্য কার্য তালিকায় রাখতে কোর্ট আদেশ দিয়েছে।
Published : 22 Aug 2023, 04:36 PM
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার মামলা রুল শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রাখার আদেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ মঙ্গলবার দুপুরে এ আদেশ দেয়।
রিটকারীপক্ষে এদিন শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সানজিদা খানম। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লিনা।
সকালে রুল শুনানির দিন ধার্যের বিষয়ে শুনানিতে হাই কোর্টের এই বেঞ্চে বিএনপি ও আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল হয়।
পরে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তখন তিনি আদেশের জন্য দুপুর ২টায় সময় রাখেন।
পরে দুপুরে অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “মামলা শুনানির জন্য কার্য তালিকায় আসবে। আগামী কাল (বুধবার) শুনানি হতে পারে।“
রুল শুনানির আগে নিয়ম অনুযায়ী তারেকের ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে রিটকারী পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
সকালে শুনানির এক পর্যায়ে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুনানির সময় পিছিয়ে বুধবার করতে বললে তার উদ্দেশে অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, “শুনানি কখন হবে সেটি আপনি বলার কে?“
এ সময় কোর্টে উপস্থিত একদল আইনজীবী হইচই করে ওঠেন। তারা কামরুল ইসলামের উদ্দেশে কটূক্তি করেন। আরেকদল আইনজীবী কামরুল ইসলামের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন।
এ সময় কামরুলের উদ্দেশে একজন আইনজীবী বলেন,“ এটা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পাননি। এটা হাই কোর্ট।”
এক পর্যায়ে কায়সার কামাল বলেন, “কোর্টের ভেতরে তিনি (কামরুল ইসলাম) যে ভাষায় কথা বলছেন, তাতে আমাদের বাইরে বের হতে ভয় হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।“
ওই সময় আদালতের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং শুনানির জন্য দুপুর ২টায় সময় নির্ধারণ করেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। দুপুরে শুনানি শেষে বিষয়টি কার্যতালিকায় রাখার আদেশ হয়।
সাড়ে আট বছর আগে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তারেককে নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ‘আইনের দৃষ্টিতে পলাতক’ থাকা অবস্থায় তার বক্তব্য বা বিবৃতি সব ধরনের গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধ করে হাই কোর্ট।
আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী লিনার রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ রুলসহ ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়।
সম্প্রতি নয়া পল্টনে বিএনপির এক সমাবেশে তারেক রহমানের ভিডিও বক্তব্য প্রচার করা হলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। রিটকারী পক্ষ তখন হাই কোর্টের সেই রুল শুনানির উদ্যোগ নেয়।
তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে হাই কোর্ট রুল জারি করেছিল ওই সময়। রুলে তথ্য ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল।
রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে বলে ওই সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন।
চার সপ্তাহের মধ্যে তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, একুশে টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও তারেক রহমানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
একইসঙ্গে তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের ওই সময়ের অবস্থা জানাতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। পুলিশ মহাপরিদর্শককে তারেকের পাসপোর্টের মেয়াদ জানিয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল, সেজন্য সময় দেওয়া হয়েছিল ৩০ দিন।
কিন্তু তারেক রহমানকে এ বিষয়ে নোটিস পাঠানো যায়নি বলে সাড়ে আট বছরেও রুলের ওপর শুনানি শুরু করা যায়নি।
নোটিস পাঠাতে গিয়ে দেখা যায়, রিট আবেদনে তারেক রহমানের ঠিকানার এক জায়গায় ‘রোড’ এর জায়গায় ‘রুম’ লেখা হয়েছিল। ভুল থাকায় নোটিস তিনি পাননি।
আদালত তখন ঠিকানা সংশোধন করে নোটিস পাঠাতে বলে; একই সঙ্গে ফ্যাক্স বা ই-মেইলেও যে নোটিস পাঠানো যায়, সে কথাও বলে।
আরও পড়ুন-