১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

তারেকের বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞা: রুলে পক্ষভুক্তির আবেদন খারিজ

বিএনপিপন্থি আইনজীবী আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া পক্ষভুক্তির এ আবেদন করেছিলেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2023, 08:12 PM

Updated : 24 Aug 2023, 08:12 PM

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার মামলায় রুল শুনানিতে এক আইনজীবীর পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। 

বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। এ বেঞ্চেই মামলাটি শুনানির জন্য রয়েছে। 

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রেজাউল হক জানান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া এই রিটের রুল শুনানিতে পক্ষভুক্ত হতে আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে। 

অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি। গত বুধবার তিনি পক্ষভুক্তির এ আবেদন করেন। 

আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, এ এম মাহাবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কুদ্দস কাজল ও কায়সার কামাল। 

রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন কামরুল ইসলাম, সানজিদা খানম ও নাসরিন সিদ্দিকা লিনা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রেজাউল হক।

দুপুর ২টায় শুনানি শুরু হয়ে চলে সোয়া ৪টা পর্যন্ত। এরপর আদালত আদেশ দেয়। 

সাড়ে আট বছর আগে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তারেককে নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ‘আইনের দৃষ্টিতে পলাতক’ থাকা অবস্থায় তার বক্তব্য বা বিবৃতি সব ধরনের গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধ করে হাই কোর্ট। 

আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী লিনার রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ রুলসহ ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়। 

সম্প্রতি নয়া পল্টনে বিএনপির এক সমাবেশে তারেক রহমানের ভিডিও বক্তব্য প্রচার করা হলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। রিটকারী পক্ষ তখন হাই কোর্টের সেই রুল শুনানির উদ্যোগ নেয়। 

তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে হাই কোর্ট রুল জারি করেছিল ওই সময়। রুলে তথ্য ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল। 

রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে বলে ওই সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন।

চার সপ্তাহের মধ্যে তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, একুশে টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও তারেক রহমানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। 

একইসঙ্গে তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের ওই সময়ের অবস্থা জানাতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। পুলিশ মহাপরিদর্শককে তারেকের পাসপোর্টের মেয়াদ জানিয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল, সেজন্য সময় দেওয়া হয়েছিল ৩০ দিন। 

কিন্তু তারেক রহমানকে এ বিষয়ে নোটিস পাঠানো যায়নি বলে সাড়ে আট বছরেও রুলের ওপর শুনানি শুরু করা যায়নি। 

নোটিস পাঠাতে গিয়ে দেখা যায়, রিট আবেদনে তারেক রহমানের ঠিকানার এক জায়গায় ‘রোড’ এর জায়গায় ‘রুম’ লেখা হয়েছিল। ভুল থাকায় নোটিস তিনি পাননি। 

আদালত তখন ঠিকানা সংশোধন করে নোটিস পাঠাতে বলে; একই সঙ্গে ফ্যাক্স বা ই-মেইলেও যে নোটিস পাঠানো যায়, সে কথাও বলে। 

ইতোমধ্যে নিয়ম অনুযায়ী তারেকের ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হয়েছে। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়।

পুরনো খবর

পুরানো খবর:

বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞা: ই-মেইলেও তারেক রহমানকে নোটিস পাঠানো যাবে

পুরানো খবর:

বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞা: তারেকের ঠিকানা সংশোধন করে নতুন আবেদনের নির্দেশ

পুরানো খবর:

তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা: রুল শুনানির আদেশ

পুরানো খবর:

তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার রুল শুনানির জন্য প্রস্তুত নয়

পুরানো খবর:

তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার রুল শুনানির উদ্যোগ