এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ‘তিক্ততা’ কমে আসার ‘সম্ভাবনা’ সৃষ্টি হয়েছে, বলেন তিনি।
Published : 04 Apr 2025, 08:49 PM
বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার প্রধানের মধ্যকার বৈঠককে দুই দেশের জন্য ‘আশার আলো’ হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে যে ‘তিক্ততা’ রয়েছে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের মধ্য দিয়ে তা কমার ‘সম্ভাবনাও’ দেখছেন তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, “বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইন বৈঠক হয়েছে, এটা খুব আনন্দের কথা।
“আমরা মনে করি যে ভূ-রাজনীতি এবং বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির যে প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ-ভারতের এই অঞ্চলের যে প্রেক্ষাপট তাতে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী সাহেবের বৈঠকটা… এটা আমাদের সামনে একটা আশার আলো তৈরি করছে।”
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিনই তিনি ভারতে চলে যান। তিন দিন পর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
তখন থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অস্বস্তি চলে আসছে, যার বড় কারণ ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ভারতে উপস্থিতি।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো দমন পীড়নকে ‘গণহত্যা’ বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুবনালে শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
হত্যা, গুমসহ তিন মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে সরকার ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠালেও দিল্লি তার উত্তর দেয়নি।
বিচারের জন্য শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার পাশাপাশি দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে এনেছে ইউনূস সরকার।
অপরদিকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে ভারত সরকার। পাশাপাশি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও অপতথ্য’ এবং ‘অতিরঞ্জিত প্রচারণার’ অভিযোগ বাংলাদেশ সরকার করেছে।
বিভিন্ন বিষয়ে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত ইস্যু এবং শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক তলবের ঘটনাও ঘটেছে।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দফা মোদীর সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও তা হয়ে ওঠেনি। ফলে বিমসটেক সম্মেলনে তাদের বৈঠক হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল।
প্রতিবেশী দুদেশের সম্পর্কের ‘স্থবিরতার’ মধ্যে ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়ে দিল্লিতে চিঠি পাঠিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
ওই চিঠির জবাব না পাওয়ার মধ্যে মোদীর প্রকাশিত সফরসূচিতে ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কোনো বিষয় ছিল না।
তবে শুক্রবার দুই দেশের সরকার প্রধানের বৈঠক হয়েছে।
এ বৈঠকের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে যে একটা বিটারনেস (তিক্ততা) তৈরি হয়েছিল, সেই বিটারনেসটা যেন আর বেশি সামনে না যায় অথবা এটা যেন কমে আসে, সেখানে একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমি যতদূর দেখেছি, তাতে করে আমার মনে হয়েছে এই ব্যাপারে দুজনই যথেষ্ট আন্তরিক এবং এটা নিসন্দেহে বাংলাদেশের মানুষকে এবং ভারতের মানুষকে… দুই দেশের মানুষের উপকার করবে।”
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি প্রায় আধা ঘন্টা স্থায়ী হয়।
এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা হয় বলে বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে গুলশানে চেয়ারপারসনে কার্যালয়ে ক্রীড়াঙ্গনে কর্মকর্তা, সংগঠন ও ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব।
সেখানে সংগঠক ও ক্রীড়াবিদদের মধ্যে ছিলেন- মাহবুবুল আনাম, রফিকুল ইসলাম বাবু, রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বির, নিয়ামুর রশীদ রাহুল, মো. আশরাফুল, হাবিবুল বাশার সুমন, রিয়াজ আহমেদ, ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব, আবু দাউদ শামসুদ্দোজা চৌধুরী ডন, মাইশিকুর রহমান রিয়াল, ফাহিম সিনহা, কাজী মহিউদ্দিন বুলবুল, সেলিম শাহেদ, সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু, আকরাম হোসেন সবুজ, ইব্রাহিম খলিল।
এ সময় সেখানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্রীড়াঙ্গনের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এই অঙ্গনকে কিভাবে উন্নতি করা যায় তা নিয়ে আলাপ হয়েছে।
পরে ক্রীড়াবিদসহ অতিথিদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।