আইএমএফের ঋণের অর্থ খরচ হবে কোথায়, জানতে চান ফখরুল

আইএমএফের ঋণ জনগণের উপর বোঝা হয়ে চাপবে কি না, তাও স্পষ্ট করতে বলেছেন বিএনপি মহাসচিব।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Nov 2022, 03:05 PM
Updated : 10 Nov 2022, 03:05 PM

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ সরকার কোন কোন খাতে খরচ করবে, তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সঙ্কটকালে ঋণ পেতে আইএমএফের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা হওয়ার পর পরদিন বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনে এক সমাবেশে এই দাবি তোলেন তিনি।

ফখরুল বলেন, “আজকে আইএমএফের কাছ থেকে লোন (ঋণ) পেয়েছেন, ডুগডুগি বাজাচ্ছেন। কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী বলেছেন যে, ‘আইএমএফের লোন আমাদের দরকার নাই’। এখন আবার লোন নিয়েছেন। ভালো কথা।

“আপনারা এসব (লোন) কী খাতে খরচ করবেন? কোথায় খরচ করবেন? - এগুলো জনগণ জানতে চায়।”

আইএমএফের ঋণ জনগণের উপর বোঝা হয়ে চাপবে কি না, তাও স্পষ্ট করতে সরকারকে বলেছেন তিনি।

“এই লোন শোধ করবেন কী করে? ইতিমধ্যে আপনার তো রিজার্ভ খালি হয়েছে। পরিশোধ করা অনেক কঠিন হবে।”

বুধবার আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। সাত কিস্তিতে বাংলাদেশ এই ঋণ পাবে। সুদের হার হবে ২ দশমিক ২ শতাংশ।

আগামী ফেব্রুয়ারিতেই এ ঋণের প্রথম কিস্তি পাওয়া যেতে পারে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

 এই ঋণ নেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফখরুল, “আইএমএফ থেকে লোন নিচ্ছে কেন? চুরি-দুর্নীতি করে সব সাফ করে দিয়েছে, দেউলিয়া করে দিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে।”

বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ, বিদ্যুতের নামে আপনারা এমন (অর্থ) পাচার করেছেন যে সেই বিদ্যুতের অন্যতম ব্যবসায়ী সিঙ্গাপুরের অন্যতম মিলিওনেয়াদের মধ্যে একজন হয়ে যায়। দেশে রাখছে না টাকা। কানাডায় বেগম পাড়া হয়েছে, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম হয়েছে- সব জায়গায় দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে।”

হুন্ডি করে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাঠিয়ে সম্পদ গড়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, “আমি বহুবার বলেছি, আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দুর্নীতি করা, চুরি করা, দেশকে ফোকলা করে দেওয়া। আপনি আশেপাশে দেখেন আওয়ামী লীগের যে পাতি নেতাটা আছে তার দাপটে থাকা যায় না। তার আগে পায়ে স্যান্ডেল থাকত না, তার এখন পাঁচ তলা বাড়ি হয়ে গেছে।

“ঢাকা শহরে এখন মার্সিডিজ, পোরশে, ল্যান্ড রোভার দেখা যায়। অথচ গাড়ি যে চালাবেন তার রাস্তা নাই। মানুষ পায়ে হেঁটে পার হতে পারে না। এই গাজীপুরের রাস্তার করুন অবস্থা। মানুষ ১২ বছর ধরে কষ্ট করছে।”

আন্দোলন প্রসঙ্গে

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা যে আন্দোলনটা করছি এটা আমরা বিএনপির জন্য করছি না। এই আন্দোলন আমাদের জনগণের জন্য, জনগণের ভোটের অধিকার, জনগণের বাঁচার অধিকার, তাদের সভা-সমাবেশ করার অধিকারের জন্য। আমরা এই আন্দোলন করছি একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের জন্য।”

আওয়ামী লীগের চরিত্রের মধ্যে গণতন্ত্র নাই, তাদের কাঠামোর মধ্যে গণতন্ত্র নাই - অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “স্বাধীনতার পরে তারা একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলো। আজকে আবার এই ১৪ বছরে ধরে গণতন্ত্রের মোড়কে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। দেশের মানুষ এটা মেনে নেবে না।”

বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও গত কয়েক মাসে ভোলায়, মুন্সিগঞ্জে ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলি করে হত্যার ঘটনা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “এভাবে নির্যাতন করে বাংলাদেশের মানুষকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন না। বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে, জেগে উঠেছে সব অসত্যের বিরুদ্ধে, হত্যা ও জেগে উঠেছে নির্যাতনের বিরুদ্ধে।”

সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের দাবি খুব সামান্য। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) এই মুহূর্তে পদত্যাগ করেন। যদি দেশকে ভালোবেসে থাকেন, পদত্যাগ করে সংসদ বিলুপ্ত করে দেন, পদত্যাগ করে একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দেন। সেই সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে যেখানে সব দলের অংশগ্রহণ থাকবে।”

‘মায়ের কান্না’ প্রসঙ্গে

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আপনারা এখন নতুন সব ফন্দি-ফিকির বের করছেন। আমাদের গুম হওয়া পরিবারগুলোর তাদের একটা সংগঠন আছে ‘মায়ের ডাক’। এখন ওটার একটা পাল্টা একটা তারা (ক্ষমতাসীনরা) তৈরি করেছে ‘মায়ের কান্না’।

“৭৫ সালে সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ওই যে ৭ নভেম্বর, সেই সময়ে কারা কারা না কি মারা গিয়েছিলো, তাদের পরিবার এতদিন পরে তারা উদয় হয়েছে। উদয় হয়ে তারা কী দাবি করছেন যে, শহীদ জিয়া তিনি নাকি মানুষদের হত্যা করেছেন। সেজন্য নাকি তারা তারা (জিয়াউর রহমানের) কবর সেখান থেকে সরিয়ে দিতে চায়।”

“এটাকে হালকাভাবে নেবেন না। এটা একটা অত্যন্ত সুদূর প্রসারী চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এই চক্রান্ত হচ্ছে আবারো বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের আন্দোলনকে ব্যর্থ করে দেওয়া,” বলেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এই সমাবেশ হয়।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসকে জিলানীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের সঞ্চালনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, মীর সরাফত আলী সপু, মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভঁইয়া জুয়েল, যুব দলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ইশরাক হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াছিন আলী, নাজমুল হাসানসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের মহানগর নেতারা বক্তব্য রাখেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক