Published : 18 Apr 2026, 07:48 PM
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার পেছনে বর্তমান সরকারের দায় দেখছেন না জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
শনিবার ঢাকার আসাদ গেটে তেলের পাম্প পরিদর্শনে গিয়ে সংসদের বিরোধীদলীয় এ নেতা বলেন, “আমরা এটা বিশ্বাস করি এবং স্বীকার করি, সংকটটা এই সরকারের তৈরি নয়। এই সংকট তৈরি হয়েছে বিশ্বে যুদ্ধে লাগার কারণে।”
জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সরকারের সাফাই গাইলেও সংসদে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে সমালোচনাও করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এখানে লুকোচুরির কী আছে! আমরা খোলামেলা সত্য কথাটা বলি। সবাই মিলে তার সমাধানের পথ খুঁজে বের করব।
“ধামাচাপা দিলে কি সেচের পাওয়ার টিলার চালানোর জন্য আমার কৃষক ভাইটা তেল পাবে?”
শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় সংসদকে বলা হচ্ছে মহান জাতীয় সংসদ, পবিত্র জাতীয় সংসদ, সার্বভৌম জাতীয় সংসদ—অনেক কিছু বলা হচ্ছে। কিন্তু সেই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে যদি জাতিকে অন্ধকারে রাখা হয় এবং সত্য কথা বলা না হয়, যদি অসত্য তথ্য দেওয়া হয়, তাহলে এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের এবং লজ্জার।’
পাম্প পরিদর্শনের আগে শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন শফিকুর রহমান।
পরে তিনি বলেন, “বর্তমানে হাম নিয়ে যে বিব্রতকর অবস্থায় দেশবাসী আছে, এটা বোঝার জন্য আমরা মূলত গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমরা দেখলাম, এটা বাংলাদেশের একমাত্র স্পেশালাইজড ডেডিকেটেড শিশু হাসপাতাল; সরকারিভাবে। এজন্য সারা দেশ থেকে এখানে রোগী চলে আসে। তারা চাপ নিতে পারছেন না। অনেক রোগী এখান থেকে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তারা কোথায় যাচ্ছেন, তারা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) তো বলতে পারবেন না। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।”

তিনি বলেন, “হামের চিকিৎসায় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সরকারি বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। এই হাসপাতালের (শিশু হাসপাতাল) শয্যা বাড়ানো দরকার এবং সেই সুযোগ আছে। শিশু হাসপাতালের শয্যা বাড়িয়ে ২ হাজার করতে হবে। তাহলে মানুষ কিছু স্বস্তি পাবে।”
পরিদর্শনের সময় বিরোধীদলীয় নেতা হাসপাতালের ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও পরিচালকসহ ডাক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে জানতে চান।
দেশের আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করে শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “আজ তিনদিন বা চারদিন হবে, গাজীপুরের মাওনায় একজন ইমাম সাহেবের মেয়েকে দিনে-দুপুরে তার সামনে থেকে ঘরের দরজা ভেঙে কিডন্যাপ করে নিয়ে গেছে কিছু দুর্বৃত্ত। আমরা খবর পেয়েছি, তারা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় এই দুর্বৃত্তপনা করেছে।”
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তার অপহৃত সন্তান ফিরে পাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি বলব, আপনার প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। এখন আপনি হস্তক্ষেপ করে এই নিরীহ-নিষ্পাপ মেয়েটাকে তার বাবা ও মায়ের বুকে ফিরিয়ে দিন।”
এসময় পাশ থেকে একজন মন্তব্য করেন, “উনারও (তারেক রহমান) একটা মেয়ে আছে।”
সামান্য থেমে আমির বলেন, “আপনারও একটা মেয়ে। অন্তত মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে ওই মেয়েটিকে বের করে দিন।”