Published : 02 Oct 2025, 08:34 PM
জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) প্রতীক হিসেবে শাপলা দিলে তা নিয়ে নিজের কোনো আপত্তি থাকবে না বলে জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
কেটলি প্রতীক পাওয়া নাগরিক ঐক্যও নিবন্ধনের সময় শাপলা ও দোয়েল দাবি করেছিল। কিন্তু জাতীয় প্রতীক বিবেচনায় সেটি তখন বরাদ্দ দেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এখন নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় না থাকলেও ‘শাপলা’ প্রতীকের দাবিতে অনড় এনসিপি। তবে শাপলা জাতীয় প্রতীকের অংশ হওয়ায় কোনো দলকে তা প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ না দেওয়ার কথা বলছে ইসি।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জে নাগরিক ঐক্যের এক অনুষ্ঠানে কথা বলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। সেখানে শাপলা প্রতীকের প্রতি নিজের ‘দুর্বলতা প্রকাশ করেন’ তিনি।
মান্না বলেন, “আমি তো চেয়েছি আমাকে দেয়নি। তারা বলেছে, এটা নাকি জাতীয় প্রতীক। আমাকে যদি জাতীয় প্রতীকের কারণে না দেন, তাহলে আর কাউকে তো দিতে পারেন না।
“ওরা (এনসিপি) এ বিষয়ে আমার কাছে এসেছিল। যারা জুলাই অভ্যুত্থান করেছে, তাদের বয়সের কারণে, অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করে এবং শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ উৎখাতের কথা বিবেচনা করে আমি তাদের প্রতি দরদী। আমি তাদের (এনসিপি) বলেছি, শাপলা প্রতীক যদি তোমাদের দিয়েই দেয়, আমি একটা অঙ্গীকার করতে পারি, কোনো মামলা করব না। আমি এখনও মনে করি, শাপলা প্রতীক হিসাবে সুন্দর।”
এ নিয়ে ফেইসবুকেও পোস্ট করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক। সেখানে তিনি লেখেন, “শাপলা প্রতীক যদি তাদের (এনসিপি) দিয়ে দেয়, কোনো মামলা করব না।”
মান্নার এ পোস্টের পর মন্তব্যের ঘরে প্র্রশংসায় ভাসছেন তিনি। জাহিদুল করিম পলাশ চৌধুরী নামের একজন লেখেন, “এটাকেই বলে নেতৃত্বের গুণাবলী। ধন্যবাদ মান্না ভাই।”
শাহরিয়ার আল আজাদ নামের একজন লেখেন, ‘একজন বড় নেতার কাছ থেকে বড় মনের পরিচয়’। চার ঘণ্টায় প্রায় চারশ মন্তব্য আসে মাহমুদুর রহমান মান্নার সেই পোস্টে। শেয়ারও হয়েছে কয়েকশ।
মাহমুদুর রহমান মান্নার এ ফেইসবুক পোস্ট শেয়ার করে এনসিপি বলছে, অবশেষ এনসিপির শাপলা প্রতীক পেতে আর কোনো ‘আইনি এবং রাজনৈতিক কোনো বাধাই রইল না’।
এনসিপির অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ লেখা হয়েছে, “নির্বাচন কমিশন এনসিপিকে শাপলা প্রতীক বরাদ্দ দিতে প্রথমে যখন আইনি বাধা দেখাল, তখন এনসিপির লিগ্যাল উইং হাতে-কলমে ধরে ধরে বুঝিয়েছে যে এনসিপির শাপলা প্রতীক পেতে কোনো আইনি বাধা নেই। তখন নির্বাচন কমিশন হাজির করল রাজনৈতিক বাধা রয়েছে। এনসিপি বললো কী সেটা? তারা জবাবে বলল শাপলা প্রতীক আপনাদের আগে নাগরিক ঐক্য চেয়েছে। তাই শাপলা দিলে তাদেরকেই দিতে হবে।
“কিন্তু আজ যখন নাগরিক ঐক্যের সম্মানিত সভাপতি জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না জানিয়ে দিলেন যে, এনসিপিকে শাপলা দিলে তাদের দল থেকে কোনো মামলা করা হবে না। তখন নির্বাচন কমিশন যে রাজনৈতিক বাধার কথা বলেছিল সেটিও আর থাকছে না।”

শাপলা পেতে ‘আইনি ও রাজনৈতিক কোনো প্রতিবন্ধকতাই নেই’ মন্তব্য করে এনসিপির পোস্টে বলা হয়, “আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, আপনারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন, স্বেচ্ছাচারিতা পরিহার করুন, দলীয় প্রভাব থেকে বের হয়ে জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠুন।”
চব্বিশের সরকারপতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নিয়ে গঠিত এনসিপি নিবন্ধনের জন্য শুরু থেকেই শাপলা প্রতীক চেয়ে আসছে। জাতীয় প্রতীকের সঙ্গে মিল থাকায় ইসি তাতে আপত্তি জানালেও সেই একই প্রতীকের জন্য ফের আবেদন করে অনড় অবস্থানে দলটি।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য বরাদ্দযোগ্য ৫০টি প্রতীকের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেখানে শাপলা নেই।
এনসিপি নেতারা ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮’ এর বিধান সংশোধনপূর্বক শাপলা, সাদা শাপলা অথবা লাল শাপলাকে তালিকাভুক্ত করে তা বরাদ্দ দেওয়ারও আবেদন করেছেন। তবে এতেও সায় মেলেনি ইসির পক্ষ থেকে।
সাংবিধানিক এ সংস্থাটি নিবন্ধনের জন্য এনসিপিকে আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে বরাদ্দযোগ্য ৫০টি প্রতীকের মধ্যে থেকে একটি প্রতীক বেছে নিতে বলেছে। ইসি এও বলেছে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় ‘শাপলা’ না থাকায় দলের কাঙ্ক্ষিত এ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মঙ্গলবার ইসি সচিব আখতার আহমেদ নতুন দল নিবন্ধন নিয়ে ইসির সিদ্ধান্ত জানানোর পর সেদিনই চিঠি দিয়েছেন এনসিপিকে।
চিঠিতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল, যা প্রাথমিক পর্যালোচনায় গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। দলটির আবেদনপত্রে পছন্দের প্রতীকের ক্রমানুযায়ী শাপলা, কলম ও মোবাইলের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৯(১) অনুযায়ী প্রার্থীর অনুকূলে বরাদ্দের জন্য নির্ধারিত প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা’ অন্তর্ভুক্ত নেই।
এমন অবস্থায় ইসির দেওয়া প্রতীকের তালিকা থেকে এখনও বরাদ্দ হয়নি—এমন একটি প্রতীক পছন্দ করে ৭ অক্টোবরের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
ইসির এ চিঠির প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “শাপলা প্রতীক পেতে আমাদের কোনো আইনি বাধা নেই—মর্মে আমরা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলাম। সেই চিঠির নিষ্পত্তি না করে অসাংবিধানিক উপায়ে, স্বেচ্ছাচারী উপায়ে তারা আমাদেরকে চিঠি দিয়েছে।
“একুশ শতকে এসে তারা আমাদের জন্য প্রতীক রেখেছে আলমিরা, উটপাখি, কাপ পিরিচ, থালাবাটি—এই ধরনের হাস্যকর প্রতীক; যেগুলো আমাদের সমাজ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।”
ইসির চিঠিতে নতুন দলের জন্য বরাদ্দযোগ্য ৫০টি প্রতীক হল:
আলমিরা, উটপাখি, কলম, কলস, কাঁপ-পিরিচ, কম্পিউটার, কলা, খাট, ঘুড়ি, চার্জার লাইট, চিংড়ি, চশমা, জগ, জাহাজ, টিউবওয়েল, টিফিন ক্যারিয়ার, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, তবলা, তরমুজ, থালা, দালান, দোলনা, প্রজাপতি, ফুটবল, ফুলের টব, ফ্রিজ, বক, বাঁশি, বেঞ্চ, বেগুন, বালতি, বেলুন, বৈদ্যুতিক পাখা, মগ, মাইক, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোড়া, মোরগ, লাউ, লিচু, শঙ্খ, সেলাই মেশিন, সোফা, স্যুটকেস, হরিণ, হাঁস ও হেলিকপ্টার।
আরও পড়ুন-
প্রতীক পছন্দে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় পেল এনসিপি
আবারও শাপলা প্রতীক চেয়ে এনসিপির আবেদন