Published : 18 Jan 2026, 08:55 PM
এনইআইআর সংস্কারের দাবিতে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মানববন্ধন করেছেন মোবাইল ফোনের ব্যবসায়ীরা।
দেশের আনঅফিসিয়াল মোবাইল ফোনের ব্যবসায়ীদের সংগঠন— মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
কার্যালয়ে ঢোকার সময় তাদের দেখতে পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে আসেন বিএনপি চেয়ারম্যান। পরে তাদের প্রতিনিধিদের ডেকে নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ব্যাবসায়ীদের ভাষ্য, বিএনপি নির্বাচিত হলে এনইআইআর সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন তারেক রহমান।
আর বিএনপি চেয়ারম্যানের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, মোবাইল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ হয়েছে এবং তিনি তাদের সমস্যাগুলো শুনেছেন।
মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনকে বাধ্যতামূলক করে চলতি ১ জানুয়ারি দেশে কার্যকর হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার বা এনইআইআর।
এই ব্যবস্থা কার্যকরের ফলে দেশের নেটওয়ার্কে অনুমোদন ছাড়া অর্থাৎ ‘আনঅফিসিয়াল’ বলে বিক্রি হয়ে আসা ফোনগুলো আর যুক্ত হতে পারবে না।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা চোরা পথে, লাগেজ পার্টির মাধ্যমে নিম্নমানের, চোরাই ও ব্যবহৃত ফোন দেশের বাজারে ঢোকাচ্ছে। এসবের কোনো তথ্য সরকারের কাছে না থাকায় এগুলো ব্যবহার করে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধসহ নানা ধরণের অপরাধমূরক কর্মকাণ্ড চলছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে গ্রে মার্কেটের ফোন ব্যবসায়ীদের সংগঠন এমবিসিবি।
গত ১ জানুয়ারি এনইআইআর পদ্ধতি কার্যকরের দিনই তারা দেশের টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কার্যালয় হামলা চালায়। পরে এ ঘটনায় ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর থেকে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীদের মুক্তি, এনইআইআর স্থগিত করা, পুরনো ফোন আমদানির সুযোগ দেওয়াসহ কয়েকটি দাবিতে দফায় দফায় সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন, দোকান বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার স্ত্রী সন্তানসহ তারা দাঁড়িয়েছিলেন গুলশানে তারেক রহমানের বাসার সামনে।

এদিন এমবিসিবির যমুনা ফিউচার পার্ক মার্কেট শাখা এবং চট্টগ্রাম মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা স্ত্রী-সন্তানসহ বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ান।
কার্যালয়ে ঢোকার সময় বিষয়টি বিএনপি চেয়ারম্যানের নজরে এলে তিনি গাড়ি থেকে নেমে তাদের কথা শোনেন। পরে ব্যবসায়ীদের চারজন প্রতিনিধিকে ডেকে নেন তিনি।
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে যান এমবিসিবির কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান, এমবিসিবি যমুনা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রুবেল এবং যমুনা ফিউচার পার্কের মোবাইল ব্যবসায়ী মাসুদুর রানা।
বৈঠক শেষে আরিফুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা আন্দোলন করছি। কিন্তু এই জালিম সরকার কোনো কর্ণপাত করেনি। এমনকি সব ডিভাইস তিন মাস (১৫ মার্চ পর্যন্ত) স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েও ভঙ্গ করেছে। তাই তারেক রহমানই আমাদের কাছে শেষ ভরসা ছিলেন।
“তার কার্যালয়ের বাইরে পরিবার পরিজন নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলাম আমরা। আমাদের অবস্থান নজরে এলে চারজন প্রতিনিধিকে ভেতরে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান তিনি।”
সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে বৈঠক শুরু হয় জানিয়ে আরিফুর রহমান বলেন, “তারেক রহমান আমাদের কথাগুলো মনযোগ দিয়ে শুনেছেন। বেশকিছু বিষয় নথি আকারে নিয়েছিলাম। সেগুলো তিনি রেখেছেন এবং তার একজন প্রতিনিধিকে সেগুলো বিশ্লেষণের দায়িত্ব দিয়েছেন।”
আরিফুর রহমানের দাবি, “প্রাথমিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সামনের নির্বাচনে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এলে বিষয়টি তারা পুনর্বিবেচনা করবেন।”
তবে বিএনপি চেয়ারম্যানের দপ্তর থেকে এনইআইআর সংস্কারের আশ্বাস সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।