Published : 09 Apr 2026, 12:05 AM
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে বিএনপি সরকারকে ‘দেশপ্রেমের’ প্রমাণ দিতে বলেছেন বিএনপির মিত্র বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
বিএনপির জন্য দেশপ্রেমের এটি প্রথম বড় পরীক্ষা বলেও মনে করেন তিনি।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি: বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এ চুক্তিতে বিএনপি ও জামায়াতের সম্মতি ছিল বলে বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দাবি করেছেন, যিনি চুক্তি স্বাক্ষরের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।
বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে ঢাকা-১২ আসনে নির্বাচন করে হেরে যাওয়া সাইফুল হক বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত অন্যায়, অন্যায্য ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি থেকে বিএনপি সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে।
“বিএনপির জন্য দেশপ্রেমের প্রথম বড় পরীক্ষা হচ্ছে কঠোর গোপনীয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষর করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী অন্যায় ও অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা। যেহেতু বিএনপির কাছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, সেহেতু দেশপ্রেমের পরীক্ষায় বিএনপি সরকারকে একশোতে একশো নম্বর পেতে হবে।”
তিনি দ্রুত এ বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।
সাইফুল হকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে বাণিজ্য চুক্তির নামে বাংলাদেশের বিনিয়োগ, ডিজিটাল বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষাসহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় ও অন্যায্য হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

এ চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কী কী বাধার মুখে পড়তে হবে সেসব তুলে ধরেন তিনি।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদকের মতে, চুক্তিতে এমন সব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের নীতিগত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবে।
তিনি বলেন, “আলোচিত এই চুক্তি ৬০ দিনের নোটিসে বাতিল করার শর্ত আছে। নতুন সরকার সে পথে হাঁটতে পারে। জনগুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত বর্তমান জাতীয় সংসদে এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে; বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার পর এই চুক্তির অন্যায্যতা দেখিয়ে সরকার এই চুক্তি বাতিল করতে পারে।”
মতবিনিময় সভায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “এই চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশকে বেশি দাম দিয়ে মার্কিন পণ্য কিনতে হবে।”
তিনি বলেন, মার্কিন সম্পূরক শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নেমে এলেও তাতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়েনি।
“এই চুক্তি বহাল থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে অন্যান্য দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক চুক্তি করতে পারবে না।”
তিনি বলেন, “এই চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রতিকূলে বাণিজ্যিক বৈষম্য আর বাড়বে। কারণ এই চুক্তিতে প্রাপ্তির চেয়ে বঞ্চনা অনেক বেশি। এটা কোনভাবেই মুক্তবাণিজ্যের চুক্তি নয়।এই চুক্তি কোনভাবেই গ্রহণ করা যাবে না।”
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, লেখক সাংবাদিক সোহরাব হাসান, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহবায়ক শেখ আবদুন নূর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান।