Published : 20 Jul 2026, 11:25 PM
প্রয়াত স্পিকার, মন্ত্রী ও আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার সবার কাছে এতটাই প্রিয় ছিলেন যে তিনি সচেতনভাবেই বিভাজনের রাজনীতিতে জড়াতে চাননি বলে তুলে ধরেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, “জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন সকলের। উনি হয়তো সকলের কাছে এতটাই প্রিয় ছিলেন, উনি বিভাজনের রাজনীতিতে ঢুকতে চাননি। এই অঙ্গনের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের কাছে প্রাণের চেয়ে প্রিয় ছিলেন তিনি।”
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত জমির উদ্দিন সরকারের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে আইনমন্ত্রী বক্তব্য রাখছিলেন।
গেল ১২ জুলাই প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা যান।
এক জীবনে একজন মানুষের যত ধরনের অর্জন থাকতে পারে, তার সবই এই প্রবীণ আইনজীবী পেয়েছেন তুলে ধরে তিনি বলেন, জমির উদ্দিন সরকার সংসদ সদস্য, শিক্ষামন্ত্রী, আইন প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার থেকে শুরু করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
সদকায়ে জারিয়া, রেখে যাওয়া জ্ঞান ও সুসন্তানের মাধ্যমে মৃত্যুর পরও সওয়াব অব্যাহত থাকার হাদিসের উদাহরণ দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, “জমির উদ্দিন সরকার জীবদ্দশায় এলাকার উন্নয়ন, আইনের বই রচনা এবং সৎ সন্তান রেখে যাওয়ার মাধ্যমে এই তিনটি শর্তই পূরণ করে গেছেন।”
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে বিএনপির সংলাপের স্মৃতিচারণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ওই সংলাপের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির উপায় হিসেবে তখন ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছিলেন জমির উদ্দিন সরকার।

সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে আসাদুজ্জামান বলেন, “এরপর উনি ঠিকই সেই লাইনে আলোচনা করেছেন। আমাদের বিশ্বাস ছিল ফলপ্রসূ আলোচনা হবে। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে সেটা হয়তো ফলপ্রসূ হয়নি।”
জমির উদ্দিন সরকারের দুটি গুণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন, “আমার কাছে তার দুটা বৈশিষ্ট্য অসাধারণ মনে হয়েছে—পেশার প্রতি একাগ্রতা এবং মামলার প্রতি দায়বদ্ধতা। বর্তমানে আইনজীবীদের মধ্যে এর বড়ই অভাব দেখছি। উনি যেই কেসটাই নিতেন, ‘থরোলি প্রিপেয়ার্ড’ হয়ে আসতেন এবং কোর্টকে ‘কনভিন্স’ করার চেষ্টা করতেন।”
তিনি বলেন, একজন আইনজীবীকে বিচারপ্রার্থীর প্রতি সুবিচার করতে হলে অবশ্যই প্রস্তুতি নিয়ে আদালতে আসতে হবে।
এক-এগারোর প্রেক্ষাপটে জমির উদ্দিন সরকারের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, “বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করে অন্যরকম সরকার প্রতিষ্ঠা করার যে অভিপ্রায় তখন জেনারেল মঈন উ আহমেদ ও ফখরুদ্দীনের ছিল, সেই সময়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার অন্যতম একজন বাধার ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
“সাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থা কায়েমের জন্য তিনি যদি শক্তি ও সাহসিকতার সঙ্গে না দাঁড়াতেন, তবে হয়তো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস অন্যভাবে রচিত হতো।”
শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত এই স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
সেখানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন।
কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া স্মরণসভাটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।
স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব, আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল এবং জমির উদ্দিন সরকারের তিন সন্তান— সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নওশাদ জমির, নিলুফার জমির ও নওফেল জমির।
সভায় জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পুরোনো খবর: