ঢাকা, ডিসেম্বর ১১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- মেয়াদের শেষ সময়ে চলে আসায় বর্তমান নির্বাচন কমিশন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে না বলে জানিয়েছেন কমিশন প্রধান এটিএম শামসুল হুদা। আর সেক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন করাও সম্ভব হবে না।
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে কীভাবে নির্বাচন হবে তা নির্ধারণে সোমবার বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ টি এম শামসুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ডিসিসি নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করবো না। তবে নতুন কমিশন এসে যাতে নির্বাচন করতে পারে সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রেখে যাব।”
সময় স্বল্পতাসহ অন্তত তিনটি কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনাগ্রহের কথা জানিয়ে মঙ্গলবারই সরকারকে চিঠি দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন সিইসি।
প্রধান বিরোধী দলের প্রবল বিরোধিতার মধ্যে সরকার গত ২৯ নভেম্বর স্থানীয় সরকার আইন (সিটি কর্পোরেশন) সংশোধনের বিল জাতীয় সংসদে পাস করে। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভেঙে উত্তর ও দক্ষিণে আলাদা দুটি সিটি কর্পোরেশন হয়।
গত ১ ডিসেম্বর এ আইনের গেজেট প্রকাশের পর দুই কর্পোরেশনের ওয়ার্ডের তালিকা করে প্রজ্ঞাপনও জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ইতোমধ্যে দুইজনকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।
সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, ডিসিসি উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত হওয়ার গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। সে অনুযায়ী, ২৮ ফেব্র“য়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত ৪ ডিসেম্বর একটি চিঠিও দিয়েছে কমিশনকে।
কিন্তু বর্তমান কমিশনের মেয়াদ আগামী ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝি সময়ে শেষ হচ্ছে বলে নির্বাচন করার জন্য ৯০ দিন সময় তারা হাতে পাচ্ছে না। এ কারণেই নির্বাচনের সময়সূচি (তফসিল) ঘোষণায় রাজি নয় বর্তমান কমিশন।
এ বিষয়ে শামসুল হুদা বলেন, “বিদায়ী কমিশন ও নতুন কমিশন মিলে একটি নির্বাচন করার নজির আমাদের কাছে নেই। এতে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হবে। এ কারণে এভাবে এ নির্বাচন আমরা করবো না।”
নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠকে দুই নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও এম সাখাওয়াত হোসেন এবং ইসি সচিব মোহাম্মদ সাদিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে শামসুল হুদা ও ছহুল হোসাইনের মেয়াদ আগামী ৪ ফেব্র“য়ারি এবং সাখাওয়াত হোসেনের মেয়াদ ১৩ ফেব্র“য়ারি শেষ হচ্ছে।
‘তিন কারণ’
সিইসি শামসুল হুদা বলেন, সময় স্বল্পতাসহ অন্তত তিনটি কারণে বিভক্ত ডিসিসির নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনাগ্রহী বর্তমান কমিশন। মঙ্গলবারই সরকারকে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হবে।
“বিভক্ত ডিসিসির নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু আমাদের হাতে যে সময় আছে তাতে দুই ভাগে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে পারছি না। আমরা শিডিউল দিয়ে বিদায় নিলে নতুনরা এসে অসুবিধা হতে পারে।”
প্রথমত, বিদয়ী ইসি তফসিল ঘোষণা করার পর নতুন ইসি নির্বাচন করেছে- এমন দৃষ্টান্ত না থাকায় ৯০ দিনের নির্বাচনের পক্ষে নয় শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন।
দ্বিতীয়ত, ডিসিসিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন চায় ইসি। স্বল্প সময়ে নির্বাচন করতে গেলে ইভিএম বাদ দিয়ে আগের ব্যালট পেপার পদ্ধতি ভোট নিতে হবে।
আর তৃতীয়ত, ইসি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করতে চায় নিজস্ব লোকবল (রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষক) দিয়ে। কুমিল্লা নির্বাচনে অধিকাংশ কর্মকর্তা ব্যস্ত থাকায় একই সময়ে ডিসিসি নির্বাচনের আয়োজন করতে গেলে ইসি লোকবল সংকট পড়বে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠির জবাবে এসব বিষয় তুলে ধরা হবে জানিয়ে শামসুল হুদা বলেন, “১৮০ দিনে নির্বাচন হলে ইভিএমে নির্বাচন করা যাবে। ইভিএম ছাড়া ঢাকায় নির্বাচন করা যুক্তিসঙ্গত মনে করি না।”
ইসি ১৮০ দিনে নির্বাচন করার প্রস্তাব দেবে কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, “তা আমরা করবো না। আইন সংশোধনের বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রলালয়ই করতে পারে।”
ডিসিসি ভাগের জন্য স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের সময় ইসির মতামত নেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
‘প্রস্তুতি রেখে যাব’
শামসুল হুদা জানান, বর্তমান মেয়াদে নির্বাচন না হলেও নতুন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করার সব প্রস্তুতি রেখে যাবেন তারা।
তিনি জানান, এই কমিশন ৫ ফেব্র“য়ারি চলে যাবে। নতুন ইসি নিযুক্ত হবেন ৬ ফেব্র“য়ারি। এর আগে নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সব কাজ চালিয়ে যাবেন তারা।
“নতুনরা এসে সব রেডি পাবে। তাদের যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ আমরা করতে থাকবো। তারা এসে যাতে ৪৫ দিনেও নির্বাচন করতে পারে।”
নির্বাচনের জন্য ছবিসহ ভোটার তালিকা মুদ্রণ ও সিডি তৈরি, তিন কপি করে ভোটার তালিকা তৈরি, নির্বাচনী বাজেট প্রস্তুত, মনোনয়নপত্রসহ প্রয়োজনীয় দলিল ও ব্যালট পেপার মুদ্রণ, প্রস্তাবিত ভোট কেন্দ্রের তালিকা তৈরি, স্টেশনারি মালামাল, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত ও বাজেট প্রাক্কলণের বিষয়গুলো কমিশনের সোমবারের সভায় তুলে ধরা হয়।
শামসুল হুদা বলেন, “নতুন ইসির অধীনেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।”
কুমিল্লা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর নরসিংদীর পৌর মেয়র নির্বাচনই হবে বর্তমান ইসির মেয়াদে শেষ নির্বাচন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/জেকে/১৪৪৫ ঘ.