Published : 10 Jun 2026, 09:24 PM
নাটোরে শিল্পকারখানা ও আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগের দাবির জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গ্যাসের নতুন মজুত পাওয়া গেলে নাটোরে তা সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের আলোচনায় নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আলোচনার শুরুতে নাটোরের সঙ্গে নিজের পারিবারিক সম্পর্ক টেনে কিছুটা রসিকতা করেন জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি বলেন, “পার্লামেন্টের পরিভাষাতে একটা কথা আছে, উইট অ্যান্ড হিউমার। যিনি প্রশ্নকর্তা, উনাকে নিয়ে একটা উইট অ্যান্ড হিউমার করতে চাই।
“আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের সবার শ্বশুরবাড়ি আছে। সিলেটে গেলে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে বলে সিলেটের দামান, আর নাটোরে গেলে আমাকে বলে নাটোরের জামাই। নাটোর বাংলা ভাষার গালির জায়গা, আমার শ্বশুরবাড়ি। এখানে তো গ্যাস দিতেই হবে।”
এ সময় সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়ে।
নাটোরে গ্যাস সরবরাহের দাবির জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “বিএনপি সরকারের আমলেই এ অঞ্চলে গ্যাস দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৫ সালে নাটোরে গ্যাস দেওয়ার জন্য উত্তরাঞ্চল গ্যাস সঞ্চালন কোম্পানি গঠন করেছিলেন। সেই কাজও শুরু হয়ে গিয়েছিল।
“সে সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ৮১ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০১২ সালে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন এই কাজটা করতে মাত্র ৮১ কোটি টাকা লাগত। কিন্তু তারা ২০১২ সালে এই প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়।”
নাটোরের গ্যাস সংযোগের প্রশ্ন থেকে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতির নিয়েও আলোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখন আমাদের দেশে গ্যাসের সঞ্চালন কমে যাচ্ছে। তার কারণ হচ্ছে ফ্যাসিস্ট সরকার গত ১৭-১৮ বছর একটা কূপও খনন করে নাই।”
তার ভাষ্য, নিয়মিত অনুসন্ধান চালানো হলে দেশে গ্যাস উৎপাদন আরও বাড়তে পারত।
সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ের পরও সমুদ্রের জ্বালানিসম্পদ কাজে লাগানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি দাবি করেন, “সমুদ্র বিজয় করে কত রকমের আতশবাজি জ্বালিয়েছিল, কিন্তু সমুদ্রের নিচে যে গ্যাস আছে, তেল আছে, সেটা আহরণ করেনি। আমাদের আশপাশের যারা আছে, মিয়ানমার উত্তোলন করে গ্যাস চীনে এক্সপোর্ট করছে। ভারত উত্তোলন করে গ্যাস ফিড করছে। কিন্তু বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলন হয়নি।”
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থলভাগ ও সমুদ্র উভয় এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তথ্য দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা এবং ১৮০ দিনের পরিকল্পনা অনুসারে বাংলাদেশের অফশোর এবং অনশোর গ্যাস উত্তোলনের জন্য দেশি-বিদেশি কোম্পানিকে আহ্বান জানিয়েছি। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রমের প্রস্তুতি চলছে।
“আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাপেক্সের যে কয়টা রিগ আছে, তার সঙ্গে আরও পাঁচটা রিগ সংযুক্ত করে আমরা অনশোর কূপ খননের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেব।”
সম্পূরক প্রশ্নে এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, “নাটোরের ওপর দিয়ে গ্যাস লাইন রাজশাহী পর্যন্ত গেলেও নাটোরের মানুষ এখনও সেই সুবিধা পাচ্ছে না। যেহেতু আপনি (মন্ত্রী) নাটোরে বিয়ে করেছেন এবং নাটোরের মানুষের প্রত্যাশা আছে। তাই জানতে চাই কবে নাগাদ নাটোরে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে?”
জবাবে মন্ত্রী বলেন, “এটা তো শ্বশুরবাড়ির আবদার হয়ে গেল। আমি তো বলেছি, আমরা কেবল কূপ খনন শুরু করেছি। আমরা টেন্ডার আহ্বান করেছি, যাতে বাংলাদেশে ইনটেনসিভ এক্সপ্লোরেশন হয় এবং গ্যাস আবিষ্কার করা যায়।”
মন্ত্রী যখন নাটোরে নিজের শ্বশুরবাড়ির প্রসঙ্গ তুলে গ্যাস দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছিলেন, তখন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দাঁড়িয়ে বলেন, “মন্ত্রী বললেন যে নাটোরে শ্বশুরবাড়ি, এ জন্য তিনি প্রাধান্য দেবেন। উনাকে একটা অনুরোধ করি, উনি যেন নোয়াখালীতেও একটা বিয়ে করেন, তাহলে আমরা চাইব।”
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও রসিকতার সুরে বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী, বিয়ে করতে চান নাকি?”
জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “আমার সামনে ওনারা বসে আছেন। ওনারা শরিয়া আইন ভালো বোঝেন। তিনটা বাকি আছে আমার এখনও। কিন্তু আমার শখ নাই আর বেশি করার। যেটা করছি, এটাই যথেষ্ট।”
মন্ত্রীর এ বক্তব্যেও সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়ে।