Published : 23 Aug 2025, 11:54 PM
পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ করেছেন জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।
শনিবার বিকালে গুলশানে পাকিস্তান হাই কমিশনে জামায়াতের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকা সফররত ইসহাক দার।
বৈঠক শেষে দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘‘দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সহযোগিতা কীভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
‘‘আগামীতে দুইটি ভ্রাতৃপ্রতীম রাষ্ট্রের সাথে আরও কীভাবে যোগাযোগ বাড়ানো যায় এবং দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা ফোরাম সার্ককে কীভাবে শক্তিশালী করা যায় এসব বিষয়ে আমরা কথা বলেছি।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘গত ১৫ বছর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি কিছুটা একপেশে ছিল। এখন বাংলাদেশ সরকার এবং আমরা সকলেই মনে করি যে, এই অঞ্চলে সকল প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আমাদের সুসম্পর্ক থাকা দরকার।
‘‘এটার ব্যাপারে তারা (পাকিস্তান) জোর দিয়েছেন, আমরাও জোর দিয়েছি। আমি তাদের বলেছি, যেসব অমীমাংসিত বিষয় আছে সেগুলো যেন খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে দ্রুত শেষ করা দরকার। আমরা সব মুসলিম রাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্কের মাধ্যমে যেসব সমস্যা হচ্ছে বিশেষ করে ফিলিস্তিনের যে সমস্যা হচ্ছে এসব বিষয়ে একটা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মুসলিম দেশগুলো নেয়, সেই কথাও আমরা বলেছি।”

এর আগে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে এনসিপির প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।
বৈঠক শেষে নাসীরুদ্দীন বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়াদি, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো, সাংস্কৃতিক বিনিময়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার মত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
‘‘পাকিস্তান গত ১৫-২০ বছর ধরে ওষুধ খাতে অগ্রগতির চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের ওষুধ খাতের উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এ খাতে দুই দেশের মধ্যে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।”
নাসীরুদ্দীন বলেন, পাকিস্তান যেহেতু পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র, তাই দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের প্রভাব রয়েছে। এ প্রভাব কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘‘পাকিস্তান নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের যে ধারণা, সেটা তাদের কাছে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। এনসিপি মনে করে বিগত সময়ে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যকার যে শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক ছিল, সেখান থেকে উন্নতির সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে জনগণের যে ভাবনা, সেটাকে আমাদের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচনায় রাখতে হবে।

‘‘আমরা মনে করি বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে, যেকোনো ধরনের সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে '৭১ এর বিষয়টিকে অবশ্যই ডিল করা উচিত। আমরা সে প্রসঙ্গটি তাদের কাছে উত্থাপন করেছি।”
তিনি বলেন, ‘‘গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। সে প্রেক্ষাপটেও আমরা দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে উন্নতি করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছি।
‘‘সার্ক বর্তমানে অকার্যকর অবস্থায় আছে ভারতের কারণে। কীভাবে সার্ককে আবার সক্রিয় করা যায় এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি আনা সম্ভব–এ বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।”