Published : 04 Jun 2026, 12:21 AM
ওয়েবসাইটের ডেটাবেইজে ‘নাম না থাকাকে’ কারণ দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ‘গার্ড অব অনার’ ছাড়াই দাফন করা হয়েছে।
একজন মুক্তিযোদ্ধার সব কাগজ জমা দেওয়ার পরও শেষ বিদায়ের আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রয়াতের এক স্বজন।
পরিবারের তরফে চেষ্টার পরও ঢাকা জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়ায় বুধবার বিকালে রাজধানীর বেরাইদে জানাজা শেষে পাঁচবারের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়।
একজন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেওয়ায় জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রতি অভিযোগ এনে রহমতুল্লাহর ভাগ্নে ফারুক হোসাইন বলেন, “সব কাগজ দেখেন, আর কী প্রমাণ দেওয়া দরকার ছিল। তাদের কেন গার্ড অব অনার দিতে ইচ্ছা হল না সেটা তো তারাই জানে।”

তবে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের তৈরি করা মুক্তিযোদ্ধাদের ডেটাবেইজে নাম না থাকার কারণে এমনটি হয়েছে বলে দাবি ঢাকা জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) হিসেবে কর্মরত সহকারী কমিশনার মো. আদনান জুলফিকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কেউ অবহিত করে নাই। মন্ত্রণালয় থেকে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া আছে, উনি আমাদের অবহিত করে। তখন আমরা যাই। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল মন্ত্রণায়লকে বা আমাদেরকে অবহিত করলেই আমি সব সময় প্রস্তুত থাকি।
“এখানে আমি নিজেও যোগাযোগ করেছি, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার বলেছেন, ডেটাবেইজে অর্থাৎ অনলাইনে এ কে এম রহমতুল্লাহর নাম না থাকায় তারা নাম পাঠায়নি। যার কারণে মন্ত্রণালয়ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আমাদের কেউ জানালে আমরা একদম মানে সাথে সাথে এটা নিয়ে ব্যবস্থা নিতাম।“
অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে পরিবারের পক্ষ থেকে লাল মুক্তিবার্তা, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তালিকা, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সনদসহ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রহমতুল্লাহ’র কাগজ দেওয়া হয়।
তবে ওয়েবসাইটের তালিকাতে নাম না থাকার কারণে রহমতুল্লাহর নাম পাঠানো হয়নি বলে দাবি করেছেন মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা খাজা আমিনুল ইসলাম আমিন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের একটা পরিপত্র জারি করছে যে অনলাইনে তার নাম থাকতে হবে। মানে ওয়েবসাইটে নাম থাকতে হবে। তো উনার নামটা ওয়েবসাইটে নাই। উনার নাম এমআইএসও নাই, মুক্তিযোদ্ধা যে কাগজটা আমার কাছে পাঠাইছে এটা ওয়েবসাইটে অনেক খুঁজলাম। কোথাও নাম না পাওয়ায় বিশেষ করে ওয়েবসাইটে নাম না পাওয়ায় আমরা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় বা ডিসি অফিসকে জানাইনি।”

লাল মুক্তিবার্তায়, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তালিকা, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সনদ থাকার পরও কেন একজন মুক্তিযোদ্ধা গার্ড অব অনার পাবেন না- এমন প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, “ওয়েবসাইটে নাম না থাকলে এমআইএস নম্বর কই পাব? কারণ ডিসি অফিসে আমরা এমআইএস নম্বর দেই, যেটা ওয়েবসাইটে থাকে।”
রহমতুল্লাহর ‘লাল মুক্তি বার্তা’ ওয়েবসাইটে না থাকার দাবি করে তিনি বলেন, “এইজন্য আমি মানে কনফার্ম হইতে পারতেছি না। তাই কোথাও দিতে পারিনি।”
দীর্ঘদিন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর পৌনে চারটার দিকে মারা যান প্রবীণ রাজনীতিক রহমতুল্লাহ।
বিকাল সোয়া ৪টায় বেরাইদে জানাজা শেষে সেখানকার কবরস্থানে মা ও বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। তার পুর্বপুরুষদেরকেও এখানেই দাফন করা হয়েছে।
ঢাকার আসন থেকে নির্বাচিত পাঁচবারের সাবেক এই সংসদ সদস্য ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা রহমতুল্লাহর মৃত্যু
বেরাইদে মা-বাবার কবরের পাশে রহমতুল্লাহকে দাফন