Published : 04 Jun 2026, 11:22 PM
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটিতে প্রস্তাব পাসের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এই পদক্ষেপকে ‘অদেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, এটি তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বাধাগ্রস্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, “গতকাল এক অর্থহীন ভোটে হাউজ (প্রতিনিধি পরিষদ) ভোট দিয়েছে। চার জন রিপাবলিকান এবং সব ডেমোক্র্যাট আমার যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে এই ভোট দেয়।
“ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য আমার চূড়ান্ত আলোচনার ঠিক মাঝামাঝি সময়ে এই ভোটাভুটি হয়েছে। এমন অদেশপ্রেমিক কাজ কে করতে পারে? আলোচনা কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা তারা ভালো করেই জানে।”
বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়। এটি এখন সেনেটে যাবে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, কংগ্রেস যদি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করে কিংবা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি না দেয়, তবে ট্রাম্পকে অবশ্যই ইরান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
পাস হওয়া প্রস্তাবটি আইনিভাবে কতটা জোরাল সেটি স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউজ এর যৌক্তিকতা উড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশালের পোস্টে বলেছেন, “ডেমোক্র্যাটরা আমার অনেক জয়ের মধ্যে আরেকটি জয় দেওয়ার চেয়ে বরং আমাদের দেশের ব্যর্থতা দেখতেই পছন্দ করবে।”
ওদিকে, নিজের রিপাবলিকান দলের চার সদস্যকে তীব্র আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, “এই চারজনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা, তারা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে লোকদেখানো কাজ করার লোক। এর জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।”
ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদের চতুর্থ চেষ্টা ছিল এটি। এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে এই সংক্রান্ত তিনটি প্রস্তাব পাসের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। গত মাসে এই প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে হাউজের রিপাবলিকান নেতারা আকস্মিকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছিলেন।
অন্যদিকে, মার্কিন সেনেটেও গত মাসে সাতবার ব্যর্থ চেষ্টার পর একটি পৃথক কিন্তু অনুরূপ প্রস্তাবের ওপর প্রাথমিক প্রক্রিয়াগত ভোট সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেনেটে এই বিষয়ে পরবর্তী ভোটের সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
গত কয়েক মাসে ট্রাম্প নির্বিঘ্নে তার নীতি বাস্তবায়ন করলেও, সম্প্রতি তিনি নিজ দলের ভেতরেই বিরোধিতার মুখোমুখি হচ্ছেন।