সুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিল নিম্নচাপে, ৩ নম্বর সংকেত বহাল
দুপুর পর্যন্ত দেশের কোথাও ভারি বৃষ্টি নথিবদ্ধ হয়নি।
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে, যার প্রভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তবে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দুপুরে তিনি বলেন, “নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই; গভীর নিম্নচাপ পর্যন্ত যেতে পারে।
“গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়ে কাল সন্ধ্যা বা রাতের মধ্যে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এটা আমাদের দেশের উপকূল নয়, উড়িষ্যার উপকূল। তবে এর প্রভাব দেশের কোস্টাল এরিয়া— খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামে বাতাসের গতি বেশি থাকবে।”
তবে দুপুর পর্যন্ত দেশের কোথাও ভারি বৃষ্টি নথিবদ্ধ হয়নি জানিয়ে এ আবহাওয়াবিদ বলেন, “বরিশালের দিকে কিছুটা মেঘ-বৃষ্টি আছে। যশোরে-কক্সবাজারে হালকা বৃষ্টির রেকর্ড আছে।”
রোববার আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও পাশের উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
এদিন দুপুর ১২টায় নিম্নচাপপি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ২৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ২৬৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরো ঘণীভূত হতে পারে। তাতে করে চার সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং পাশের বাংলাদেশ উপকূলের উপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাসমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতই দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
