Published : 25 May 2026, 09:18 PM
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে অন্য সমন্বয়কদের সঙ্গে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর ‘হাতাহাতি’ হয়েছিল বলে দাবি করেছেন রাশেদ খাঁন।
গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদকে যখন গোয়েন্দা কার্যালয়ে মারধর করা হত, হাসনাত আব্দুল্লাহ আর সারজিস তখন ডিবি কার্যালয়ের পুকুরপাড়ে ‘জুস খেত’।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন হয়, সেই আন্দোলনে সমন্বয়কদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
৩৬ দিনের সেই আন্দোলনে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশও আসে। নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম।
বর্তমানে হাসনাত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপি থেকে জয়ও পেয়েছেন তিনি।
সোমবার নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে একটি অডিও বার্তা দেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, অডিওটি হাসনাত আব্দুল্লাহর।
ওই অডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “প্রত্যেকটা মিটিংয়ে যদি কোনো ভয়েস সবসময় রেইজ ছিল, যে মিছিল কখনো হলের ভেতরে যাবে না এবং মিছিল কখনো ভাঙবে না, সেটা হচ্ছে হাসনাত আব্দুল্লাহ।”
অডিওতে ওই ব্যক্তি আরও বলেন, “আমি রেগুলার এটা মিন করে গেছি। রেগুলার। আমি কখনো কনফ্লিক্টে যেতে চাই নাই, কনফাউন্ডেশনে যেতে চাইনি। আমাদের দাবি একটাই ছিল, কোটা সংস্কার। আমি সেটার মধ্যেই স্থির থাকতে চেয়েছি।
“এখন ঘটনা হচ্ছে যদি সমন্বয়কদের মধ্যে আমি পুনারবৃত্তি করছি যদি সমন্বয়কদের মধ্যে কেউ আগ বাড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, কাউকে না জানিয়ে, সেটার দায়ভার ভাই কেন আমি নেব? আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এটা নিয়ে হাতাহাতি বাকি ছিল। হাতাহাতি ছাড়া যত ধরনের যা কিছু আছে, সবগুলোই হয়েছে। এখন যদি ভাই কেউ কথা না শোনে, সেই জায়গায় আমি কী করতে পারি, বলো?”
পোস্ট করা অডিওর সঙ্গে রাশেদ লেখেন, “শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে অন্য সমন্বয়কদের সঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহর হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছে! নাহিদ আসিফ ডিবিতে মাইর খেতো, আর হাসনাত সারজিস ডিবি কার্যালয়ের পুকুরপাড়ে জুস খেতো!
“কেন জুস খাওয়াতো, এই অডিওতে শুনতে পাবেন। আমি বিএনপির এমপিদেরকে বলব, সংসদে সে যখন বেশি কথা বলবে, তখন এই অডিওটা বেশি বেশি বাজাবেন।”
রাশেদ বলেন, “আমি পূর্বে বলেছিলাম, গণ-অভ্যুত্থানের সময় হাসনাত ও সারজিসের (এনসিপি নেতা সারজিস আলম) দুর্বলতা থাকার কারণে তারা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা আওয়ামী লীগের পক্ষেরই লোক। একজন উপদেষ্টা শপথ নেওয়ার আগে ৭ অগাস্ট রাত ২টার দিকে বলেছিল, হাসনাত-সারজিস জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে।
“এই অডিওতে সেই বেইমানির কিঞ্চিৎ প্রমাণ পাবেন। আসিফ মাহমুদের বইতে গণ-অভ্যুত্থানের শুধুমাত্র ইতিবাচক দিকটা উঠে এসেছে, কিন্তু হাসনাত-সারজিসের বেইমানির ইতিহাসটা আসে নাই। আশা করি, পরবর্তী এডিশনে আমরা সেটা পাব...আর না পেলে ৭১-এর মত ২৪ এর বানোয়াট ইতিহাসই আমাদের সম্বল হবে।”
অডিওটি নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির টিকেটে ঝিনাইদহ থেকে নির্বাচন করা রাশেদ খান সোমবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই অডিওটা শতভাগ হাসনাত আব্দুল্লাহর। এখানে রিপোর্টার হিসেবে আপনারও কোনো দায় নেই। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম স্বাধীনভাবে এই অডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
এ বিষয়ে জানতে নির্বাচনি হলফনামায় দেওয়া নম্বর এবং আন্দোলন চলাকালীন ব্যবহার করা দুটি নম্বরে হাসনাত আব্দুল্লাহকে ফোন করা হয়। তবে দুটি নাম্বারই বন্ধ পাওয়া গেছে। হোয়াটসঅ্যাপেও তাকে পাওয়া যায়নি।