Published : 21 Jul 2026, 09:43 PM
পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে যৌথ উদ্যোগ হিসাবে আন্তর্জাতিক পাট এক্সপো আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে পররাষ্ট্র এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার দুই মন্ত্রণালয়ের এক সমন্বয় সভা থেকে এ ঘোষণা দেওয়ার কথা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
‘বাংলাদেশের পাটখাতের কৌশলগত অর্থনৈতিক কূটনীতি ও রপ্তানি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ওই সমন্বয় সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম অংশ নেন।
সভায় দুই মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের পাশাপাশি অচিরেই একটি ‘ভিন্ন মাত্রার’ আন্তর্জাতিক পাট এক্সপো আয়োজনের ঘোষণা দেন তারা।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ‘যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ’ জাতীয় পর্যায়ে পাট প্রদর্শনীর জন্য কর্মপন্থা ঠিক করা, পাট শিল্পের উন্নয়নে বাণিজ্য বাধা দূর করা, গবেষণা করা এবং মিল-আধুনিকায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।
এছাড়া, প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক পাট এক্সপোতে দেশি-বিদেশি ক্রেতা, গবেষক ও বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভার শুরুতেই পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবীত করার বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পূর্নব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পাটখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সোনালী আঁশের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে ‘পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনী’র গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
পাটশিল্পের উন্নয়নে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর সহায়তায় অর্থনৈতিক কূটনীতির উপর জোর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী পাটের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পাটের নতুন বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারের দুই মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে পাটের ডিসপ্লে সেন্টার ও গিফট শপ স্থাপন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পাটজাত স্কুল ব্যাগ তৈরির প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পাটবীজের আমদানি-নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
“উভয় মন্ত্রণালয় পাটকে একটি আধুনিক জৈব-বৃত্তাকার শিল্পে রূপান্তর, কৃষকের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশকে জলবায়ুবান্ধব পাট-সমাধানের একটি বিশ্বস্ত বৈশ্বিক উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠার অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।”
উভয় মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, পাট অধিদপ্তর, পাটশিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন-সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।