Published : 18 Sep 2026, 01:53 PM
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ইন্টারনেট সেবায় বিধিনিষেধের ১০০ দিন পার হয়েছে।
আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত জুনের শুরুতে জুনের শুরুতে নির্বাচনি সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ওই অঞ্চলে মোবাইল ডেটা ও ব্রডব্যান্ড সেবা বন্ধ রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে তিন ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত ১০ অগাস্ট শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ হয়।
সেখানে নতুন সরকার গঠিত হলেও আংশিক ইন্টারনেট শাটডাউন অব্যাহত থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ইন্টারনেট না থাকায় অনলাইন ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও অ্যাপগুলো কাজ করছে না, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো অঞ্চলের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে।
সরকারিভাবে ভর্তি পরীক্ষাগুলো স্থগিত করায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা ‘নেটব্লকস’ জানিয়েছে, গত ৫ জুন থেকে এই আংশিক ইন্টারনেট শাটডাউন চলছে।
যে কারণে বিক্ষোভ
জুলাইয়ের ২৭ তারিখে স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সেই নির্বাচন সামনে রেখে উত্তেজনা শুরু হয়।
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীর একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। সেখানে নিজস্ব প্রধানমন্ত্রী এবং ৪৫ সদস্যের আইনসভা রয়েছে।
আইনসভার ৪৫টি আসনের মধ্যে ১২টি পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ভারতশাসিত কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।
গত ৫ জুন কর্তৃপক্ষ জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেকেজেএএসি) নিষিদ্ধ করে। তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই জোট আইনসভায় শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল।
এরপর ৫ জুন ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিক্ষোভ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ। ২৭ জুলাই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও সহিংস রূপ নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত সদস্যও রয়েছেন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে বিক্ষোভের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি এলাকায় ভোট হয়নি। তবে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের অন্য এলাকাগুলোর নির্বাচনি ফলের ভিত্তিতেই নতুন সরকার গঠিত হয়েছে।