১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকার কাছাকাছি নদীর পাড়ে একদিন

ছুটির দিনে লোকারণ্য স্থানে ঘুরে বেড়ানোর বদলে নদীর কাছে শান্ত সময় কাটানো যেতেই পারে।

রিফাত পারভীন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 18 Sep 2026, 01:48 PM

Updated : 18 Sep 2026, 01:50 PM

ঢাকার মধ্যে সম্ভব না হলেও অনেক দূরে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই। শহরের কাছাকাছি বিরুলিয়া, সাভার, সিংগাইর ও রূপনগরের নদীপাড়ে এক দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা করাই যায়।

কোথাও তুরাগের পানি, কোথাও বংশী বা কালীগঙ্গার বিস্তৃত নদী, আবার কোথাও বর্ষার পানিতে ডুবে যাওয়া চকের (বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ) ওপর নৌকা— প্রতিটি জায়গার অভিজ্ঞতাই হতে পারে আলাদা।

বিশেষ করে শীতের আগ পর্যন্ত এই এলাকাগুলোর চেহারা অনেকটাই বদলে যায়। নিচু জমি ও চকের অংশ পানিতে ডুবে গেলে চারপাশে তৈরি হয় ছোট ছোট বিলের মতো জলাশয়।

কোথাও সেই পানিতে নৌকা ঘোরাঘুরি দেখা যায়, কোথাও নদীর ঘাটে সারি দিয়ে নৌকা বাঁধা থাকে।

বিরুলিয়ায় নদীতে

বিরুলিয়া তুরাগ নদীর তীরে। আর বিরুলিয়া সেতুও তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত। মিরপুর, আশুলিয়া ও বিরুলিয়ার নদীপাড়ে বর্ষার সময় পানি বেড়ে যায়।

বিরুলিয়ায় শুধু নদীর পাড়ে বসে থাকা ছাড়াও নৌকায় পানিতে কিছুটা সময় ঘুরেও আসা যায়। দুই থেকে চারজন হলে ছোট নৌকা যথেষ্ট। পরিবার বা বন্ধু মিলে ছয় থেকে দশজন গেলে একটু বড় ছইওয়ালা নৌকা আরামদায়ক। বড় দল হলে আরও বড় নৌকা নেওয়া যায়।

বিরুলিয়ায়, দ্য রিভার এইজ রেস্টুরেন্টের নিচেই বড় নৌকায় নদী ভ্রমণ করা যায়।  

বিরুলিয়ায় যেভাবে যাবেন

মিরপুর-১ বা মিরপুর-১০ থেকে বিরুলিয়া বা আশুলিয়াগামী স্থানীয় বাস কিংবা যানবাহনে বিরুলিয়া সেতু বা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যেতে পারেন। সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশা নিয়ে স্থানীয় নদীর ঘাটে যেতে হবে।

আরেকটি পথ হল, গাবতলী হয়ে আমিনবাজারের দিকে গিয়ে বিরুলিয়ার পথে যাওয়া।

উত্তরা বা দিয়াবাড়ির দিক থেকেও বিরুলিয়া যাওয়া যায়। দিয়াবাড়ি থেকে স্থানীয় যানবাহনে বিরুলিয়া সেতুতে এসে সেখান থেকে অটোরিকশা নিয়ে নদীর ঘাটে যাওয়া যায়। সাদুল্লাপুর ও গোলাপ গ্রামের দিকেও এই পথ ব্যবহার করা হয়।

 সাভারে মনু মিয়ার ঘাটে

সাভারের নদী ভ্রমণের তালিকায় মনু মিয়ার ঘাটও রাখা যায়। ঘাটটি সাভারের ভাগলপুর এলাকায় পরিচিত। সাভার থানা স্ট্যান্ড এলাকায় এনাম মেডিকেল পেড়িয়ে, সামনে আসলেই পাওয়া যায় মানু মিয়ার ঘাট।

মনু মিয়ার ঘাটে দল অনুযায়ী নৌকা নেওয়া যায়। কেউ চাইলে ছাদওয়ালা নৌকায় বসতে পারেন। এতে রোদ বা হালকা বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।

আবার খোলা নৌকায় বসলে চারপাশের নদী, আকাশ আর বাতাস আরও কাছ থেকে উপভোগ করা যায়।

ছাদওয়ালা নৌকার ওপর বসেও আড্ডা গল্প চলতে পারে। তবে সেদিন নৌকা পাওয়া যাচ্ছে কি না, কোথা থেকে উঠতে হবে এবং কতক্ষণ ঘোরা যাবে, তা আগে থেকেই জেনে নেওয়া ভালো।

নৌকার ভাড়া

বিরুলিয়া, সাভার বা সিংগাইরের স্থানীয় নৌকার কোনো নির্দিষ্ট ভাড়া নেই। নৌকার আকার, যাত্রীর সংখ্যা, ইঞ্জিন আছে কি না, কতক্ষণ ঘুরবেন এবং কোথা পর্যন্ত যাবেন— এসবের ওপর ভাড়া নির্ভর করে।

তবে সাধারণত ঘন্টা হিসেবে প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। অর্থাৎ সময় ও নৌকার ধরন অনুযায়ী দর পরিবর্তন হতে পারে।

 সাভারের বংশী নদীতে দীর্ঘ ভ্রমণ

যারা শুধু এক ঘণ্টার নৌ-ভ্রমণ নয়, বরং পুরো দিনটি নদীর কাছে কাটাতে চান, তারা সাভারের বংশী নদীর দিকটি বেছে নিতে পারেন।

সকালে গিয়ে নদীর পাড়ে নাশতা, এরপর নৌকায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা ঘোরাঘুরি, তারপর নদীর ধারে দুপুরের খাবার— এভাবে দিনটি সাজানো যায়।

নৌকায় ছই থাকলে রোদ থেকে বাঁচা যায়। আবার আকাশ পরিষ্কার থাকলে খোলা নৌকা বেছে নিয়ে চারপাশের দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

 কাশফুল দেখতে নৌকায়

শরৎ এলে নদীর পাড়ের কাশফুল দেখার ভিন্নধর্মী আয়োজন হতে পারর নৌকা ভ্রমণ।

তবে কাশবনের খুব কাছে নৌকা ভেড়ানোর আগে জায়গাটি নিরাপদ কি-না এবং স্থানীয়ভাবে সেখানে কীভাবে যাওয়া যায়, তা মাঝির কাছে জেনে নেওয়া ভালো। শুধু ছবি তোলার জন্য নদীর কিনারায় ঝুঁকে পড়াও ঠিক নয়।

চাঁদের রাতে নৌভ্রমণ

চাঁদভরা রাতে নদীর চেহারা একেবারেই বদলে যায়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে পানির ওপর চাঁদের আলো আলাদা আমেজ আনে। তাই চাঁদের আলোয় অল্প সময়ের নৌ-ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

তবে রাতের নৌ-ভ্রমণে দিনের চেয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে নৌকায় পর্যাপ্ত আলো আছে কি-না, মাঝি অভিজ্ঞ কি-না এবং নদীর ওই অংশে রাতের চলাচলের নিরাপত্তা— এসব আগে নিশ্চিত করতে হবে। অপরিচিত নদীতে অনেক রাত পর্যন্ত নৌকায় থাকাও উচিত হবে না।

 রূপনগরের বর্ষার পানি

রূপনগরের গল্পটা একটু আলাদা। এটি সাভার এলাকা থেকে কিছুটা ভেতরে। তবে স্থায়ীয় রিক্সা নিয়ে ৩০ মিনিটের মধ্যেই চলে যাওয়া যায়। বর্ষার সময় সাভার-রূপনগরের নিচু এলাকার কিছু ‘চক’ বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেলে চারপাশের দৃশ্য বদলে যায়।

যেখানে শুকনো সময়ে মাঠ বা নিচু জমি দেখা যায়, বর্ষায় সেখানে পানি জমে তৈরি হয় ছোট জলভূমির মতো পরিবেশ। স্থানীয় নৌকার ব্যবস্থাও থাকে তখন।

তবে রূপনগরকে সারা বছর নিয়মিত নৌভ্রমণে যাওয়া যায় না। তাই এ সময়ে কোন অংশে পানি জমেছে, কোথা থেকে নৌকা পাওয়া যাচ্ছে এবং সেদিন নৌকা চলাচল নিরাপদ কি-না, এসব জেনে নিতে হবে।

 সিংগাইর ব্রিজের নিচে

এখানেও চকের মতো জায়গা আছে, যা বর্ষায় নদীর পানিতে ডুবে যায়। তখন নৌকায় ঘোরার অভিজ্ঞতা হতে পারে একেবারেই নিরিবিলি।

ঢাকা থেকে গাবতলী বা আমিনবাজার হয়ে সাভারের দিকে গিয়ে মানিকগঞ্জগামী বাসে সিংগাইরের দিকে যাওয়া যায়। ব্রিজ এলাকায় নেমেই নিচে অংশে নৌকার ব্যবস্থা পাওয়া যাবে।

তবে দিনের বেলাতেই ঘোরা নিরাপদ।

কখন যাবেন, কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?

বর্ষায় পানিতে ভরা নদী ও নিচু এলাকা দেখতে ভালো লাগলেও স্রোত বেড়ে যেতে পারে। তাই ঝড়, ভারী বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় নৌ-ভ্রমণ করা উচিত নয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সময় আরামদায়ক। চাঁদনি রাতে গেলে অবশ্য নদীর আলাদা রূপ পাওয়া যাবে।

সঙ্গে পানিরোধী ব্যাগ, বাড়তি পোশাক, ছাতা, পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ময়লা রাখার ব্যাগ রাখা ভালো। নৌকার কিনারায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়া বা ধারণ-ক্ষমতার বেশি মানুষ ওঠানো কোনও ভাবেই যাবে না।

নদী থাকুক নির্মল

নৌ-ভ্রমণের আনন্দ যেন নদীর ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। নৌকায় বসে খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, প্লাস্টিক বা অন্য কোনো আবর্জনা নদীতে ফেলা যাবে না। সঙ্গে একটি ছোট ব্যাগ রাখলে ব্যবহৃত জিনিসপত্র তাতেই জমিয়ে তীরে ফিরে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা যায়।

পুরানো খবর:

শ্রীমঙ্গলের ‘নির্জন’ ঠিকানায় সবুজের ভেতর নিরিবিলি ছুটি

পুরানো খবর:

কালমেঘাতে সবুজের ভেতর পাঁচতারকা গ্রামীণ বিলাস

পুরানো খবর:

দেশের ভেতরে ভ্রমণে সাশ্রয়ী হওয়ার কৌশল