Published : 14 Jul 2026, 12:21 AM
মানুষের স্বার্থ ও অধিকার উপেক্ষিত হলে সংসদে বসে সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার মতো বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।
সংসদের বিরোধী দলীয় এ নেতা বলেছেন, “ভালো কিছু হলে অবশ্যই আমরা (সরকারকে) সমর্থন দেব, কিন্তু জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াব।”
সোমবার রাতে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সামনে তিনি একথা বলেন। তার আগে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সদস্যরা।
জুলাই আন্দোলনের পর নির্বাচনে জয়লাভ করা বিএনপি গণভোটের দাবি অনুযায়ী শপথ না নেওয়ায় সমালোচনা করেন বিরোধী দলী নেতা শফিকুর রহমান।
তার কথায়, “জাতিকে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ করে তারা এখন যুক্তি তুলছেন যে, সংবিধানের মধ্যে গণভোটের কোনো বিধান বা প্রভিশন নেই। সংবিধানের ভেতরে যদি গণভোটের প্রভিশন না-ই থেকে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালেও কোনো নির্বাচন হতে পারে না।
“সংবিধানে তো ২০২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না, সেটি ২০২৯ সালে গিয়ে হওয়ার কথা। এটাও সংবিধানে ছিল না। জনগণের সর্বোচ্চ ইচ্ছাই হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন। জনগণ চেয়েছে, এই জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারকে তারা বিদায় দিয়েছে। কোনো সংবিধানের আলোকে তারা বিদায় নেয়নি।”
জামায়াত আমির বলেন, “সেই সরকার (আওয়ামী লীগ) বিদায় নেওয়ার পরে জনগণের অভিপ্রায়ে একটি সরকার গঠিত হয়েছিল এবং সেই সরকারের জারি করা আদেশের আলোকেই দেশে গণভোট এবং সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“এখন গোশত হালাল আর ঝোল হারাম। একটা যদি হালাল হয়, তবে আরেকটা হারাম হয় কীভাবে?”
শফিকুর রহমান বলেন, “তারা এখনো বলছেন এটা (গণভোটের বিধান) সংবিধানে নেই। তাহলে তো সংবিধানে এই সরকারেরও কোনো বিধান বা প্রভিশন নেই, এখন যেটি গঠিত হয়েছে।
“সংবিধান অনুযায়ী এখন কোনো সরকারি দল নেই, তারা পালিয়ে গেছে। সংবিধান অনুযায়ী এখন কোনো বিরোধী দলও নেই, তারাও পালিয়ে গেছে। আপনি সংসদ মানবেন, সরকার মানবেন, জনগণের অভিপ্রায়ের এক অংশ মানবেন আর আরেক অংশ মানবেন না। গণভোটকে অস্বীকার করবেন আর বলবেন—একান্ন ভাগ মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে।
“অথচ ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ যে গণভোটে রায় দিয়েছে, সেই একান্ন ভাগ বড় নাকি ওইটা বড়? এই একান্ন ভাগ তো বাস্তবায়ন হয়েছে। আমাদের অনেক আপত্তি থাকা সত্ত্বেও আমরা তা মেনে নিয়েছি। শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে, গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসুক সেই স্বার্থে।
“তাহলে বেশিরভাগ জনগণের অভিপ্রায়কে আমরা অস্বীকার করব কীভাবে? আমরা জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাই না। জনগণকে আমরা কথা দিয়েছি।”