Published : 23 Jan 2026, 12:45 AM
ভোটের প্রচারের প্রথম দিন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির সঙ্গে প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে নানা সমালোচনাও করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এক্ষত্রে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীকে নিশানা করেই বেশির ভাগ সমালোচনা করেছেন বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের এই প্রার্থী।
জামায়াতে ইসলামীর নাম উচ্চারণ না করে তারেক রহমান দলটির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচার’, মানুষকে ‘ঠকানো’ ও ‘শিরিক’ করার মতো অভিযোগও তুলেছেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দলটির কী ভূমিকা ছিল, সে কথাও ভোটারদের স্মরণে এনেছেন তিনি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট সামনে রেখে বৃহস্পতিবার থেকে প্রচারের মাঠে নামের প্রার্থীরা।
দলের রীতি মেনে এদিন সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করার মধ্য দিয়ে ভোটের প্রচার শুরু করেন তারেক রহমান।
সেখানে জামায়াতের সমালোচনা করতে গিয়ে সমাবেশ থেকে এক ব্যক্তিকে মঞ্চে ডেকে নেন তারেক রহমান। এরপর তিনি ওই ব্যক্তির কাছে জানতে চান, “আপনি কাবা শরিফে গেছেন, কাবা শরিফের মালিক কে?”
ওই ব্যক্তি উত্তর দেন, ‘আল্লাহ’।
তখন বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা মুসলমান সবাই, এই দিন-দুনিয়া, আমরা যে এই পৃথিবী দেখি, এই পৃথিবীর মালিক কে?’।
এবারও উত্তর আসে, ‘আল্লা ‘।
তারেক রহমান আবার প্রশ্ন করেন, “এই সূর্য-নক্ষত্র যা দেখি তার মালিক কে?” উত্তর আসে, ‘আল্লাহ’।
বিএনপি চেয়ারম্যান প্রশ্ন করেন, “বেহেস্তের মালিক কে?” জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আল্লাহ’। তারেক এবার জানতে চান, ‘দোজখের মালিক কে?’ উত্তর আসে, ‘আল্লাহ’।
এসময় উপস্থিত জনতাও সমস্বরে ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ উত্তর দিচ্ছিলেন।
এরপর তারেক রহমান বলেন, “আপনারা সবাই সাক্ষ্য দিলেন, দোজখের মালিক আল্লাহ; বেহেস্তের মালিক আল্লাহ, এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ।
“আরে ভাই যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কী অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তাহলে নির্বাচনের আগেই একটি দল ‘এই দেব, ওই দেব বলছে’; টিকেট দেব বলছে না?”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “যেটার মালিক মানুষ না, সেটার কথা যদি সে বলে, শিরক করা হচ্ছে, হচ্ছে না?
“কাজেই আগেই তো আপনাদেরকে ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তাহলে কেমন ঠকাবে আপনাদেরকে, বোঝেন এবার।”
মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “প্রিয় ভাই-বোনেরা, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ, যে যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি। সেই মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি।
“যাদের ভূমিকার কারণে এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হয়েছে। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা বোন, তাদের সম্মানহানি হয়েছে; কাজেই তাদেরকে তো বাংলাদেশের মানুষ ইতোমধ্যেই দেখেই নিয়েছে।”
তারেক বলেন, “এই কুফরির বিরুদ্ধে, এই হটকারিতার বিরুদ্ধে, এই মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদেরকে ঐ যে টেক ব্যাক বাংলাদেশে থাকতে হবে।“


‘কেউ যায় দিল্লি, কেউ যায় পিন্ডি’
বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের শায়েতাগঞ্জে প্রস্তাবিত উপজেলা পরিষদ মাঠেও নির্বাচনি সমাবেশ করেন তারেক রহমান। সেখানেও জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে বক্তব্য দেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা অতীতে কী দেখেছি? কিছু হলেই পাশের এক দেশে চলে যায় কেউ কেউ, চলে যায় না? এখনও চলে গিয়েছেন। আবার গতকালকে আমরা দেখেছি যে, এক লোক পালিয়ে গিয়েছিল? কোথায় পালিয়ে গিয়েছিল জানেন? পিন্ডি পালিয়ে গিয়েছিল।”
জামায়াতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “এই যাদের কথা ষড়যন্ত্র করছে বললাম; এই বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, এনআইডি নম্বর নিচ্ছে, মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে বিভিন্ন কথা বলে- তাদের এক লোক পালিয়ে গিয়েছিল পিন্ডিতে।
“কেউ যায় দিল্লি, কেউ যায় পিন্ডি। কিন্তু বিএনপি রয়ে গেছে এই দেশে, এই দেশের মানুষের পাশে।”
তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া কোথাও গিয়েছে? খালেদা জিয়া এই দেশের মানুষকে ছেড়ে কোথাও যায়নি। মৃত্যুকে মেনে নিয়েছে, যুদ্ধ করেছে, প্রতিবাদ করেছে; কিন্তু এই দেশের মানুষকে ছেড়ে কোথাও যাননি।”
‘ফের ভোট চুরির ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে’
সিলেট থেকে সড়কপথে হবিগঞ্জে আসার আগে মৌলভীবাজারের শেরপুরে নির্বাচনি সমাবেশেও বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
সেখানে ‘ফের ভোট চুরির ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পত্রপত্রিকা তো কমবেশি সবাই পড়েন, পড়েন না? ফেইসবুক তো কমবেশি সবাই দেখেন, দেখেন না? এই ফেইসবুকে দেখেন, পত্রপত্রিকায় এসেছে একটি সংবাদ; কী সেই সংবাদ? মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এনআইডি কার্ড নিয়ে মোবাইল নম্বর নিয়ে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে একটি দল; দেখেছেন? একটি দল বিভিন্ন ভাবে বিভ্রান্ত করছে।
“আমরা দেখেছি গত ১৫ বছর ১৬ বছর জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে, এখন এই দেশে আরেকটি রাজনৈতিক দল এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এখানে আজ যারা উপস্থিত আছেন, আপনাদের কাছে আমি বিনীত অনুরোধ করব এবং আপনাদের মাধ্যমে এই পুরো জেলার চারটি নির্বাচনি এলাকার যত ভাই-বোন, মুরুব্ব আছেন, যারা দাঁড়িয়ে আছেন- সকলকে আমি অনুরোধ করব, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সজাগ থাকার জন্য।

কোনো দলের নাম উচ্চারণ না করে তিনি বলেন, “এরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং এরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পত্রিকায় পড়েছি আমরা, সোশাল মিডিয়াতে দেখেছি যে ব্যালট পেপার তারা গায়েব করে দিচ্ছে; সব ব্যালট পেপার নিজেদের পক্ষ নিয়ে নিয়েছে, অর্থাৎ আবার ভোট চুরির প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছে।”
জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, “আরে ভাই, আপনাদেরকে তো মানুষ একাত্তরে দেখেছে; ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। একাত্তরে মানুষ দেখেছে আপনারা কীভাবে দেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।”
তারেক বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যারা আছেন, ডক্টর ইউনূসসহ সকলকে অনুরোধ করব, তাদেরকে যে প্রটোকল দিয়েছেন, আমাদেরকে যে নিরাপত্তা দিয়েছেন; আমরা আপনাদের অনুরোধ জানাচ্ছি সরকারের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে, এই লাখো জনতার পক্ষ থেকে, তাদের প্রটোকল দরকারে তিন ডাবল করে দেন।
“তাদের প্রটোকল তিন ডাবল করে দেন, কারণ তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং মানুষ এইটা জানতে পেরে মানুষ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হচ্ছে। আমরা চাই না, ক্ষিপ্ত হয়ে মানুষ কিছু করে বসুক।”